পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরেই দিন-রাতের সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে একটি দিন ২৪ ঘণ্টার হলেও বাস্তবে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি সবসময় একরকম থাকে না। কখনও তা সামান্য বাড়ে, কখনও আবার কমে।
2
13
সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন এমন হারে ধীর হচ্ছে, যা গত প্রায় ৩৬ লক্ষ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলির একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
3
13
গবেষকদের মতে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি ধীর হওয়ার প্রধান কারণ চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ। চাঁদের টানের ফলে পৃথিবীর মহাসাগরে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়।
4
13
এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর ঘূর্ণন থেকে অল্প পরিমাণ শক্তি ক্রমাগত ক্ষয় হয়। এর ফলেই ধীরে ধীরে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমে এবং দিনের দৈর্ঘ্য সামান্য করে বেড়ে যায়।
5
13
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন এতটাই ধীর যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। বর্তমানে শতাব্দীপ্রতি দিনের দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ১.৭ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত বাড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
6
13
যদিও এই পরিবর্তন খালি চোখে বা দৈনন্দিন সময় গণনায় বোঝা যায় না, তবুও অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক ঘড়ি এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব।
7
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের এই পরিবর্তন শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই নয়, জলবায়ু, সমুদ্রের স্রোত এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কিত গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
8
13
অতীতের ভূতাত্ত্বিক স্তর, জীবাশ্ম এবং প্রাচীন প্রবাল বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এক দিনের দৈর্ঘ্য বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। সেই সময়ে একটি দিন প্রায় ২২ ঘণ্টা বা তারও কম সময়ের হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
9
13
এছাড়া পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের গলিত লোহা, ভূমিকম্প, হিমবাহের গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলিও পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।
10
13
পৃথিবীর ঘূর্ণনের এই ধীরগতির কারণে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সময় গণনার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর ঘূর্ণন ও পারমাণবিক সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী "লিপ সেকেন্ড" যোগ বা বাদ দেওয়া হয়।
11
13
ভবিষ্যতে যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে সময় নির্ধারণের আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে আরও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
12
13
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হওয়া একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।
13
13
তবে এই পরিবর্তন পৃথিবীর অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ করে দিচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলিকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যা ভবিষ্যতে আমাদের গ্রহ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনতে সাহায্য করবে।