পৃথিবীর ঘূর্ণন দিবস প্রতি বছর ৮ জানুয়ারি পালন করা হয় ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী লেয়ন ফুকোর যুগান্তকারী আবিষ্কারকে স্মরণ করে। ১৮৫১ সালে ফুকো প্রমাণ করেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর ঘুরছে, এবং সেই প্রমাণের মাধ্যম ছিল বিখ্যাত ফুকোর পেন্ডুলাম।
2
9
একটি সীসার ভারী বল দড়িতে ঝুলিয়ে ঘূর্ণনের ফলে বলের গতিপথ পরিবর্তন হতে দেখে তিনি প্রমাণ করেন যে স্থির মনে হলেও পৃথিবী আসলে অনবরত ঘুরছে। পেন্ডুলামের চারপাশে সাজানো পিন পর্যায়ক্রমে পড়ে গেলে ঘূর্ণনের প্রমাণ স্পষ্টভাবে সামনে আসে।
3
9
এই দিনটি ৮ জানুয়ারি উদযাপনের কারণ হল এদিনই ফুকো প্যারিসের প্যানথিয়নে বিজ্ঞানী, পণ্ডিত ও সাধারণ মানুষের সামনে তার পেন্ডুলাম প্রদর্শন করেন। ২০২৬ সালে সেই মহাকাণ্ডের ১৭৫ বছর পূর্ণ হল।
4
9
পৃথিবীর ঘূর্ণন কীভাবে দিনের আলো ও রাতের রূপ তৈরি করে। এটি হাজার বছরের রহস্য ছিল। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লিদেস অব পন্টাস খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে মনে করেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে। যদিও ইউরোপে বহু শতাব্দী ধরে অন্য ধারণা ছিল। সেখানে স্থির পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য, চন্দ্র ও গ্রহরা ঘুরছে বলে বিশ্বাস করা হত।
5
9
এদিকে ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্ট পঞ্চম শতকে তার রচনায় পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং নক্ষত্রের আপাত গতির ব্যাখ্যা দেন। পরে ইউরোপে নিকোলাস কপারনিকাস ১৫০০ সালের দিকে জানান যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে আবর্তন করে এবং নিজের অক্ষে ঘোরে।
6
9
এরপর ইয়োহানেস কেপলার ১৬০৯ সালে বলেন যে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে বৃত্ত নয়, বরং উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে এবং এর গাণিতিক মডেলও তৈরি করেন। একই সময়ে গ্যালিলিও গ্যালিলি তার পর্যবেক্ষণে সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বকে সমর্থন করেন।
7
9
তবে এত কিছু থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর নিজ অক্ষের ঘূর্ণনের প্রত্যক্ষ পরীক্ষামূলক প্রমাণ ছিল না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করেন লেয়ন ফুকো তার পেন্ডুলাম পরীক্ষার মাধ্যমে।
8
9
ফুকোর পর্যবেক্ষণ শুধু জ্যোতির্বিদ্যা নয়, আবহাওয়া ও মহাসাগরীয় প্রবাহ সম্পর্কে নতুন ধারণার পথও খুলে দেয়। সূর্য ও নক্ষত্রের আপাত গতির কারণ বোঝা সহজ হয় এবং মানুষের সামনে মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিশাল এক জিগ-স পাজলের নতুন টুকরো যুক্ত হয়।
9
9
বাইরের দৃষ্টিতে এই আবিষ্কারগুলো স্বাধীন মনে হলেও প্রতিটি একে অপরের পরিপূরক, এবং মানবজাতি হাজার বছরের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন করেছে। সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ স্মারকই হল পৃথিবীর ঘূর্ণন দিবস।