১৭ বছর থেকে এই পরীক্ষা করলেই অকালে হারাতে হবে না প্রাণ! তরুণদের কোন সাবধানবাণী দিলেন ড. দেবী শেঠি?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১০ জুলাই ২০২৬ ১৭ : ২৭
শেয়ার করুন
1
15
আজকাল তরুণদের মধ্যে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক এবং অকাল মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দেবী শেঠি। তাঁর মতে, হৃদরোগ এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ নয়। এই মারাত্মক বিপদ থেকে বাঁচতে তিনি ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সি সমস্ত ভারতীয়দের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।
2
15
ড. দেবী শেঠির মতে, আজকাল অনেক তরুণ-তরুণীই জানেন না যে তাঁদের হার্টে কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। হার্টের অনেক রোগ বা ব্লক কোনও রকম আগাম লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ১৭ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই বছরে অন্তত একবার ‘ইকোকার্ডিওগ্রাম’ বা হার্টের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা উচিত।
3
15
এই পরীক্ষার সুবিধাগুলো হল এটি হার্টের গঠন এবং ভালভগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা জানিয়ে দেয়। হার্টের রক্ত সঞ্চালনের গতি এবং পাম্প করার ক্ষমতা কতটা, তা নির্ভুলভাবে ধরা পড়ে। কোনও জন্মগত বা গোপন হার্টের সমস্যা থাকলে তা আগেভাগেই চিহ্নিত করা যায়, যা ভবিষ্যতে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।
4
15
ড. শেঠি তরুণদের মধ্যে এই অকাল মৃত্যুর পেছনে মূলত আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা এবং কিছু ভুল অভ্যাসকে দায়ী করেছেন। যেমন-
5
15
খারাপ জীবনযাত্রা ও ডায়েটঃ অতিরিক্ত ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়া এবং তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের কারণে কম বয়সেই শরীরে কোলেস্টেরল জমছে। সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা বাড়ছে।
6
15
অতিরিক্ত মানসিক চাপ: পড়াশোনা, কেরিয়ার বা ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র প্রতিযোগিতা তরুণদের মনে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ তৈরি করছে। এই বাড়তি স্ট্রেস রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করে।
7
15
ঘুমের চরম অভাব: রাত জেগে মোবাইল ঘাঁটা বা কাজের চাপে পর্যাপ্ত না ঘুমানো এখনকার প্রজন্মের অন্যতম বড় সমস্যা। দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম না হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বিগড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে হার্টের ওপর।
8
15
তামাক ও ই-সিগারেটের নেশা: ধূমপান, গুটখা বা আধুনিক ট্রেন্ড ‘ভেপ’ ব্যবহারের ফলে ধমনীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এটি কম বয়সীদের হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ।
9
15
বংশগত কারণকে অবহেলা: পরিবারে যদি কারও হার্টের রোগের ইতিহাস থাকে, তবে তরুণদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অথচ সচেতনতার অভাবে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না।
10
15
কেবল পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়, হার্টকে আজীবন সচল ও সুস্থ রাখতে ড. শেঠি কয়েকটি সাধারণ নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলেছেন। যা হল-
11
15
নিয়মিত চেক-আপ: ১৭ বছর বয়স পার হলে ইকোকার্ডিওগ্রামের পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করানো অভ্যাস করুন।
12
15
প্রতিদিন ব্যায়াম: জিমে গিয়ে ভারী ওজন তুলতে হবে এমন নয়; প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট জোরে হাঁটুন, সাইকেল চালান বা সাঁতার কাটুন। এতে হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
13
15
খাবারে নিয়ন্ত্রণ: খাবারে অতিরিক্ত কাঁচা নুন এবং ডালডা বা সস্তা তেল খাওয়া বন্ধ করুন। প্রতিদিনের ডায়েটে তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং জল পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন।
14
15
৪. নেশামুক্তি: হার্টকে বাঁচাতে হলে যে কোনও ধরনের তামাক বা ধূমপানের অভ্যাস আজই ত্যাগ করতে হবে।
15
15
ড. দেবী শেঠির মতে, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে। তরুণ বয়সে 'আমার কিছু হবে না' এই ভেবে শরীরকে অবহেলা করাই সবচেয়ে বড় ভুল। তাই ১৭ বছর বয়স থেকেই নিজের হার্টের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানোই এখনকার সময়ে সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।