মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন—এর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি “পারমাণবিক যুদ্ধ”ও রয়েছে। তবে এবারের বক্তব্যে তিনি নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ান, যখন বলেন যে গত বছরের ভারতীয় সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ থামাতে হস্তক্ষেপ না করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মারা যেতেন এবং তার সঙ্গে পাকিস্তানের বাসিন্দারাও মারা যেত।
2
9
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমার প্রথম ১০ মাসে আমি আটটি যুদ্ধ শেষ করেছি... পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হয়ে যেত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যেত।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ভারতের সামরিক পদক্ষেপের মুখে ইসলামাবাদ তখন রীতিমতো চাপে ছিল।
3
9
ট্রাম্প যে যুদ্ধগুলি সমাধান করেছেন বলে দাবি করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল-হামাস, ইজরায়েল-ইরান, মিশর-ইথিওপিয়া, ভারত-পাকিস্তান, সার্বিয়া-কসোভো, রুয়ান্ডা-ডিআর কঙ্গো, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের দ্বন্দ্ব।
4
9
তবে নয়াদিল্লি শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই ‘মধ্যস্থতা’র দাবি নাকচ করে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক প্রশ্নের জবাবে কটাক্ষ করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “যুক্তরাষ্ট্রেই ছিল।” অর্থাৎ, সংঘাত থামাতে ওয়াশিংটনের কোনও সরাসরি ভূমিকা ছিল না বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
5
9
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—তারা কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেয়নি। পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, পাকিস্তানের ডিজিএমও সামরিক হটলাইনে ভারতের ডিজিএমও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযান থামানোর অনুরোধ জানান। সেই কথোপকথনের ফলেই একটি “সিজফায়ার আন্ডারস্ট্যান্ডিং” হয়।
6
9
প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ভারতের দাবি।
7
9
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইসলামাবাদ অস্বস্তিতে পড়েছে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা। কারণ, গত বছর পাকিস্তানই ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল।
8
9
তাদের দাবি ছিল, তার “কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ” ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এখন ট্রাম্পের বক্তব্যে যেন উল্টো ইঙ্গিত মিলছে—পাকিস্তান চরম বিপদের মুখে পড়েছিল এবং তাদের দেশ সরাসরি সমস্যার মধ্যে ছিল।
9
9
দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সবসময়ই উদ্বেগ থাকে। তবে বাস্তবে কে কতটা ভূমিকা নিয়েছিল, তা নিয়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেও, নয়াদিল্লি তার অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি।