কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ইতিমধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় বেতন পাচ্ছেন, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য এবার গঠিত হয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি বাংলার বেতন কাঠামোও কেন্দ্রের কাছাকাছি যাবে? বেসিক পে, ডিএ, এইচআরএ থেকে পেনশন- দুই পে কমিশনের মধ্যে পার্থক্য কতটা?
2
9
প্রথমেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝে নেওয়া দরকার। কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই কার্যকর, তার সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশনের সদ্য তৈরি হয়েছে। এখনও তার সুপারিশ জমা পড়েনি। অর্থাৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা, কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে এখনই নতুন বেসিক বা ফিটমেন্ট ফ্যাকটর চূড়ান্ত হয়েনি।
3
9
কেন্দ্রের সপ্তম বেতন কমিশনে-তে পুরনো পে ব্যান্ড ও গ্রেড পে-এর পরিবর্তে পে ম্যাট্রিক্স চালু হয়। কেন্দ্রীয় কর্মীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বেসিক পে ১৮০০০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন পে লেভেল অনুযায়ী বেসিক পে বাড়ে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এখনই একই পে ম্যাট্রিক্স থাকবে কিনা তা নিশ্চিয়তা এখনও নেই। নতুন কমিশনকেই রাজ্যের জন্য উপযুক্ত বেতন কাঠামো এবং পে ফিক্সেশন-এর পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ করতে হবে। তবে এখানেই রয়েছে বড় খবর।
4
9
রাজ্য সরকারের প্রকাশিত টার্ম অফ রেফারেন্স-এ কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকার, কেন্দ্রীয় অধিগৃহীত এবং অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনের-এর কাঠামো বাংলার কমিশনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদদণ্ড হতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মীরা কোন বেতন কাঠামো-এ কত বেসিক পাচ্ছেন, ডিএ ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, সেগুলি রাজ্যের নতুন কাঠামো তৈরির সময় আলোচনায় আসবে।
5
9
এখানেই কর্মীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। কেন্দ্রের সপ্তম বেতন কমিশনের পে ম্যাট্রিক্স অনুযায়ী বেসিক নির্ধারিত হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনের এখনও নতুন বেসিক ঘোষণা করেনি। ফলে সরাসরি দুই সরকারের কর্মীদের বেতন বা অন্য়ান্য সুবিধা তুলনা করা সম্ভব নয়।
6
9
সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিএ সংশোধন হয়। পশ্চিমবঙ্গেও ডিএ দেওয়া হয়, কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ফারাক রয়েছে। রাজ্যেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান ডিএ কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামো-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নিয়ে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে কমিশনকে। ফলে কর্মীদের নজর শুধু বেসিক পে নয়, নতুন বেতন কমিশন কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেদিকেও থাকবে।
7
9
হাউস রেন্ট অ্যালোয়েন্স, ট্রভেলিং অ্যালোয়েন্স, অন্যান্য ভাতা এবং বিভিন্ন কর্তনের উপরেও কর্মীদের হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করে। পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম বেতন কমিশন-কে বিভিন্ন অ্যালোয়েন্স পর্যালোচনার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের তুলনায় বাংলার কর্মীদের মোট বেতন এবং বেতনের হাতে পাওয়া টাকার কতটা পার্থক্য হবে, তাও কমিশনের সুপারিশের পরই পরিষ্কার হবে।
8
9
কেন্দ্রের বেতন কাঠামো ও রাজ্যের বেতন কাঠামো কী এক হবে? কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই কার্যকর, কিন্তু বাংলার কমিশন এখনও সুপারিশের পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তবে কেন্দ্রীয় বেতন কাঠামোকে বিবেচনায় রাখার নির্দেশ থাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন কাঠামোর ফারাক কমানোর বিষয়টি এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ হয়েছে।
9
9
পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের পর ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যেতে পারে। তাই এখনই নতুন বেতন বা ফিটমেন্ট ফ্যাকটর নিয়ে চূড়ান্ত অঙ্ক বলা ঠিক হবে না। কমিশনের সুপারিশ এবং তার পর রাজ্য সরকারের অনুমোদনই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কর্মীদের বেতন কতটা বাড়বে।