ফ্যাটি লিভার কমাতে পাতে রাখুন এই ৫ খাবার, জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৪ : ৫৪
শেয়ার করুন
1
14
অতিরিক্ত মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হবে এমনটা নয়। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, বেশি চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারের অভ্যাস থেকেও লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তাই খাবারের দিকে নজর দেওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা লিভার সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
2
14
চিকিৎসকেরা তাঁর খাদ্যতালিকায় এমন কয়েকটি খাবার ও পানীয় রাখেন, যেগুলিতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ওমেগা-৩, ভিটামিন সি, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং পলিফেনল থাকে৷ এই ধরনের পুষ্টি উপাদান প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং লিভারে ফ্যাট জমার মতো বিষয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে অভিমত চিকিৎসকদের৷
3
14
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার: ‘ফ্যাট’ শুনলেই সব ফ্যাটকে খারাপ ভাবার প্রয়োজন নেই। অলিভ অয়েল, বাদাম এবং অ্যাভোকাডোর মতো খাবারে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট লিভারের জন্য তুলনামূলকভাবে উপকারী। এগুলির মধ্যে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে প্রদাহ কমাতে এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
4
14
স্যালাডে অল্প অলিভ অয়েল ব্যবহার করা, টিফিনে একমুঠো বাদাম রাখা কিংবা খাবারের সঙ্গে পরিমাণমতো অ্যাভোকাডো যোগ করা যেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হলেও পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি, কারণ সব ধরনের ফ্যাটেই ক্যালোরি বেশি।
5
14
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার: ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কথাও উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক। স্যামন, ম্যাকারেল এবং সার্ডিনের মতো তৈলাক্ত মাছে এই পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। নিরামিষ উৎস হিসেবে চিয়া সিড, গুঁড়ো করা ফ্ল্যাক্স সিড, হেম্প সিড এবং আখরোট বেছে নেওয়া যেতে পারে।
6
14
বিশেষ করে মাছ খেলে ভাজাভুজির বদলে গ্রিল, বেক বা কম তেলে রান্না করা ভালো। সকালের ওটস বা দইয়ের সঙ্গে সামান্য চিয়া কিংবা ফ্ল্যাক্স সিড যোগ করাও সহজ উপায়।
7
14
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: লিভারকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখেন। কিউই, কমলালেবু এবং গ্রেপফ্রুটের মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।
8
14
তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে গোটা ফলই বেশি ভাল বিকল্প। ফলের রসের বদলে ফল খেলে ফাইবারও পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে কমে।
9
14
কফি ও গ্রিন টি: লিভারের জন্য উপকারী পানীয়ের তালিকায় কফি এবং গ্রিন টি-র কথা বলেছেন চিকিৎসক। গ্রিন টি ও ম্যাচায় ক্যাটেচিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা লিভারের কোষকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হতে পারে।
10
14
অন্যদিকে, চিনি বা অতিরিক্ত দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি নিয়েও লিভার স্বাস্থ্যের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। তবে কফি সবার জন্য উপযুক্ত নয়—অ্যাসিডিটি, ঘুমের সমস্যা বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে কতটা কফি খাওয়া নিরাপদ, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
11
14
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফল: ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি, রাস্পবেরি, ডালিম এবং খেজুরও রয়েছে চিকিৎসকের পছন্দের তালিকায়। বেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন এবং ডালিমের পলিফেনলের মতো উপাদান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এগুলি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
12
14
খেজুর ও আখরোটের সংমিশ্রণ ফ্যাটি লিভারের জন্য বিশেষ উপকারী৷ তবে খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি রয়েছে, তাই ফ্যাটি লিভার বা ডায়াবেটিস থাকলে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
13
14
চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি-দুটি ‘সুপারফুড’-এর উপর নির্ভর করলে হবে না। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত চিনি, ভাজাভুজি, অ্যালকোহল ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, সবকিছুর সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে।
14
14
তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে নিজের মতো করে কোনও খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া বা বিশেষ ডায়েট শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে ব্যক্তিভেদে খাদ্যতালিকা আলাদা হতে পারে।