বর্তমানে বহু মানুষ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। কেনাকাটা থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিল, সব ক্ষেত্রেই এটি সুবিধা দেয় ঠিকই, কিন্তু সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে অনেকের মনে ভয় কাজ করে- ক্রেডিট কার্ডের টাকা না দিলে কি জেলে যেতে হতে পারে?
2
9
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি থাকলেই প্রথমেই কাউকে জেলে পাঠানো হয় না। এটি মূলত একটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়, যা দেওয়ানি আইনের আওতায় পড়ে। অর্থাৎ এটি সাধারণত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।
3
9
ব্যাঙ্ক বা কার্ড প্রদানকারী সংস্থা প্রথমে গ্রাহককে ফোন, এসএমএস বা ইমেলের মাধ্যমে বকেয়া টাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্তত ‘মিনিমাম ডিউ’ পরিশোধ করার অনুরোধ করা হয়।
4
9
যদি তাতেও টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে বকেয়া টাকার উপর সুদ ও লেট ফি যোগ হতে থাকে। ফলে অল্প সময়েই মোট পাওনা অনেক বেড়ে যায়।
5
9
দীর্ঘদিন বিল না দিলে গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা গাড়ির ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড ব্লক করে দিতে পারে।
6
9
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ব্যাঙ্ক আইনি নোটিশ পাঠাতে পারে বা রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তবে রিকভারি এজেন্টদের আচরণও নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। ভয় দেখানো বা হেনস্থা করা আইনবিরুদ্ধ।
7
9
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেমন যদি প্রমাণ হয় গ্রাহক ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করেছেন, ভুয়ো নথি জমা দিয়েছেন বা পেমেন্টের জন্য দেওয়া চেক বাউন্স হয়েছে এবং আইনি নোটিশের পরও টাকা শোধ করেননি, তাহলে ফৌজদারি মামলা হতে পারে, যেখানে জেল হওয়ার নির্দেশও থাকতে পারে। কিন্তু সাধারণ আর্থিক সমস্যার কারণে বিল বাকি থাকলে সরাসরি জেলের প্রশ্ন ওঠে না।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক সমস্যায় পড়লে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে ইএমআই, রিসট্রাকচারিং বা সেটেলমেন্টের সুযোগ পাওয়া যায়।
9
9
এককথায় বলাই যায়, ক্রেডিট কার্ডের বিল না দেওয়া গুরুতর আর্থিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, তবে শুধুমাত্র বকেয়া থাকার জন্য জেলে যেতে হয় না। সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপই নিলে বড় ঝামেলা এড়াতে পারবেন।