উত্তর প্রদেশের চারটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে তপশিলি জাতি (এসসি) ও তপশিলি উপজাতি (এসটি) শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্বের ৭০ শতাংশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা অবিলম্বে পুনর্বহাল করার জোরালো দাবি তুলল সিপিআই(এম)। এই মর্মে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা লোকসভার দলনেতা কে রাধাকৃষ্ণাণ।
2
8
তিনি রাজ্য সরকারকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংরক্ষণ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে রাধাকৃষ্ণাণ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কনৌজ, জালৌন, আম্বেদকর নগর এবং সাহারানপুরের ওই চারটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ মূলত প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের চিকিৎসা শিক্ষার আওতায় আনার মহৎ উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
3
8
কেন্দ্র ও রাজ্যের 'স্পেশাল কম্পোনেন্ট প্ল্যান' (এসসিপি) এবং 'ট্রাইবাল সাব প্ল্যান' (টিএসপি)-এর বিশেষ তহবিলের আর্থিক সহায়তায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে তোলা হয়। সেই বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের স্বার্থেই কলেজগুলিতে দলিত ও আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের জন্য মোট আসনের ৭০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
4
8
সিপিআই(এম) সাংসদ তাঁর চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় উত্তর প্রদেশ সরকার নিজেই প্রতিষ্ঠানগুলির এই বিশেষ সংরক্ষণ কাঠামো বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেছে। ফলে আদালতের নির্দেশে কলেজগুলির বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ও অনগ্রসর অংশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
5
8
তিনি যুক্তি দেন, সাধারণ ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের যে সীমা রয়েছে, এই চারটি কলেজের পরিস্থিতি কেবল সেই নিরিখে বিচার করা সমীচীন নয়; বরং এর সাথে এসসিপি এবং টিএসপি তহবিলের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য এবং সংবিধানে উল্লেখিত সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার অঙ্গীকার সরাসরি জড়িত।
6
8
এই প্রসঙ্গে কেরালার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে রাধাকৃষ্ণাণ উল্লেখ করেছেন, সেখানে ডাক্তারি শিক্ষায় এসসি-এসটি শিক্ষার্থীদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে কেরালা সরকার যথাযথ বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছিল।
7
8
উত্তর প্রদেশ সরকারেরও উচিত একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করা।বর্তমানে সমগ্র বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণের অধীনে যাতে পুরনো ৭০ শতাংশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখা যায়, তার জন্য সর্বাত্মক আইনি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাধাকৃষ্ণাণ।
8
8
তাঁর মতে, পেশাগত ও আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় যখন আজও প্রান্তিক সমাজের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, তখন এই ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ রদ করলে সামাজিক বৈষম্য আরও গভীর হবে।