সাবধান! এক ক্লিকেই খালি হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! প্যান আধার থেকে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর আগে সাবধান, জেনে নিন জরুরি সতর্কতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৪ : ১৭
শেয়ার করুন
1
14
“প্যান কার্ড, আধার আর ব্যাঙ্কের লেটেস্ট স্টেটমেন্টটা হোয়াটসঅ্যাপ করে দিন”, ব্যাঙ্ক, লোন এজেন্ট, প্রপার্টি ব্রোকার কিংবা কোনও হোটেল থেকে এমন অনুরোধ আসা এখন খুবই সাধারণ। কাজের প্রয়োজনে অনেকেই কোনওরকম সন্দেহ না করেই ফোন থেকে প্রয়োজনীয় নথির ছবি বা পিডিএফ পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বিপদ।
2
14
সমস্যা শুধু হোয়াটসঅ্যাপ-এ নথি পাঠানোতেই শেষ নয়। আসল প্রশ্ন হল, সেন্ড করার পর সেই নথি কোথায় যাচ্ছে এবং কতগুলি কপি তৈরি হচ্ছে?
3
14
আপনি যখন কোনও ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্যান আধার কিংবা ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট পাঠাচ্ছেন, তখন নথিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোনে ডাউনলোড হয়ে থাকতে পারে। সেই ফোন থেকে আবার ফাইলটি কম্পিউটার বা অন্য কোনও ডিভাইসে চলে যেতে পারে। এমনকি ফোনের ক্লাউড ব্যাকআপের মাধ্যমেও নথির অতিরিক্ত কপি তৈরি হতে পারে।
4
14
অর্থাৎ, আপনি হয়তো ভেবেছেন নির্দিষ্ট একজনকে একটি PDF পাঠিয়েছেন। বাস্তবে সেই ফাইলের একাধিক কপি কোথায় রয়েছে, তা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নথির মালিক ব্যক্তি সৎ হলেও ভবিষ্যতে তাঁর ফোন, ই-মেল বা ক্লাউড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আপনার তথ্যও ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
5
14
PAN Card, Aadhaar এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট কোনও সাধারণ নথি নয়। এগুলির মধ্যে থাকা তথ্য একজন ব্যক্তির আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
6
14
PAN থেকে আর্থিক পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের সূত্র পাওয়া যায়। Aadhaar-এ রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। আবার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে থাকতে পারে অ্যাকাউন্ট নম্বরের অংশ, লেনদেনের তথ্য, বেতন বা আয়ের বিবরণ এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যকলাপের তথ্য। এগুলি ভুল হাতে পড়লে প্রতারণার ফাঁদে পড়তে পারেন৷
7
14
এই সতর্কতার গুরুত্ব বোঝা যায় দেশের ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির পরিসর দেখলেও। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই অর্থবর্ষে প্রায় ২৪ হাজার ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
তাই ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে সামান্য অসতর্কতাকেও হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।
8
14
তাহলে কি কখনও WhatsApp-এ নথি পাঠাবেন না? বিষয়টি এমন নয় যে কোনও পরিস্থিতিতেই ডিজিটাল মাধ্যমে নথি শেয়ার করা যাবে না। KYC, লোন, হোটেল বুকিং বা অন্য কোনও পরিষেবার জন্য পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতেই পারে। আসল বিষয় হল কীভাবে এবং কার কাছে নথি পাঠাচ্ছেন। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নথি আপলোড করুন। ব্যক্তিগত WhatsApp নম্বরে PDF পাঠানোর বদলে সেই ব্যবস্থাই ব্যবহার করা ভাল।
9
14
একটি অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে নথি জমা দিলে সাধারণত বোঝা সহজ হয়—কোন সংস্থা তথ্যটি সংগ্রহ করছে এবং কী উদ্দেশ্যে করছে। কিন্তু কোনও ব্যক্তিগত নম্বরে PDF পাঠালে সেই তথ্য পরে কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, আর কতগুলি কপি তৈরি হচ্ছে, তা বোঝা অনেক কঠিন।
10
14
যদি কোনও নির্দিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে WhatsApp ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প না থাকে, তাহলে অন্তত কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকুন। প্রথমেই নিশ্চিত করুন, যে নম্বর থেকে নথি চাওয়া হয়েছে সেটি সত্যিই সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা অনুমোদিত ব্যক্তির নম্বর কি না। সম্ভব হলে সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
11
14
নথি পাঠাতেই হলে PDF-টি password-protect করে পাঠানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে PDF-এর সঙ্গে একই WhatsApp মেসেজে password না পাঠিয়ে আলাদা মাধ্যমে password জানানো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
12
14
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—OTP, UPI PIN, ATM PIN, CVV বা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং password কখনও কোনও KYC-এর নামে WhatsApp-এ পাঠাবেন না।
একবার ‘Send’ করলে নিয়ন্ত্রণ আর আপনার হাতে থাকে না
13
14
PAN Card, Aadhaar বা ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের মতো নথি একবার ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠিয়ে দিলে সেটি ফেরত নেওয়া কার্যত অসম্ভব। প্রাপক মুছে ফেললেও তার আগে নথিটি অন্য কোথাও কপি বা ব্যাকআপ হয়ে থাকতে পারে।
14
14
তাই পরের বার কেউ WhatsApp-এ KYC documents চাইলে তাড়াহুড়ো করে ‘Send’ করার আগে একবার প্রশ্ন করুন—“আপনাদের কি কোনও official document-upload portal আছে?”