নোটবন্দির পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১০ বছর। কিন্তু জাল নোটের কারবার এখনও বন্ধ হয়নি। বরং এবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নকল কয়েনের রমরমা। দেশের একাধিক রাজ্যে তৈরি হচ্ছে নকল ২০ টাকার কয়েন।
2
12
তদন্তে উঠে এসেছে, ইতিমধ্যেই বাজারে প্রায় ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৫০ লক্ষ নকল কয়েন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার অভিযানে এই চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
3
12
পুলিশ সূত্রে খবর, হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ছড়িয়ে রয়েছে এই চক্রের জাল। হরিয়ানার সোনীপতে একটি কারখানায় প্রায় ১০ মাস ধরে নকল ২০ টাকার কয়েন তৈরি হচ্ছিল।
4
12
বাইরে থেকে দেখলে মনে হত, সেখানে স্ক্রু-ড্রাইভার তৈরি হয়। আসলে আড়ালে চলছিল জাল মুদ্রা তৈরির কারবার। পরে ধরা পড়ার আশঙ্কায় যন্ত্রপাতি সরিয়ে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
5
12
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাহারানপুরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার হয় ছয়টি ভারী যন্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ নকল কয়েন।
6
12
ধৃতদের কাছ থেকে ৬৪০০টি তৈরি নকল ২০ টাকার কয়েন উদ্ধার হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.২৮ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, আরও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের অসম্পূর্ণ কয়েন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
7
12
তদন্তকারীদের দাবি, বিশেষ ছাঁচ ও ভারী যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি হচ্ছিল এই কয়েন। অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও নিকেলের মিশ্রণে তৈরি ধাতব রিংয়ের উপর ২০ টাকার কয়েনের নকশা ফুটিয়ে তোলা হত।
8
12
পরে ঘষামাজা করে সেগুলিকে আসল কয়েনের মতো চকচকে করা হত। দৈনিক ১০-১২ হাজার নকল কয়েন তৈরি করার ক্ষমতা ছিল এই কারখানার। ছোট শহরের টোল প্লাজা, মদের দোকান এবং খুচরো ব্যবসার মাধ্যমে সেগুলি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হত।
9
12
কী ভাবে চিনবেন আসল ২০ টাকার কয়েন? 1. আসল ২০ টাকার কয়েন সম্পূর্ণ গোল নয়। এর ১২টি কোণ রয়েছে।
10
12
2. কয়েনের বাইরের কিনারা মসৃণ। কোনও অস্বাভাবিক খাঁজ বা দাগ থাকার কথা নয়। 3. আসল কয়েন দুটি ধাতুর সমন্বয়ে তৈরি। বাইরের বলয় নিকেল সিলভার এবং ভিতরের অংশ নিকেল ব্রাসের।
11
12
4. এক পিঠে ভারতীয় শস্যের নকশা এবং অন্য পিঠে অশোক স্তম্ভের প্রতীক থাকে। খোদাই ও লেখাগুলি স্পষ্ট হওয়া উচিত। 5. আসল ২০ টাকার কয়েনের ওজন ৮.৫৪ গ্রাম এবং ব্যাস ২৭ মিলিমিটার। অস্বাভাবিক হালকা বা অতিরিক্ত চকচকে কয়েন দেখলে সতর্ক হোন।
12
12
তাই বাজার থেকে ২০ টাকার কয়েন হাতে পেলে একটু ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। সামান্য অসতর্কতাতেই আপনার পকেটে ঢুকে যেতে পারে জাল মুদ্রা।