বাইকে একপাশে পা দিয়ে বসা- ঐতিহ্য নাকি নিছক অভ্যাস? এই প্রশ্ন বহুদিনের। গ্রামের দিকে আজও বহু মহিলাকে মোটরসাইকেলে দু পা একপাশে রেখে বসতে দেখা যায়। কিন্তু ট্রেন্ড বা ঐতিহ্যের আড়ালে যে মারাত্মক বিপদ লুকিয়ে রয়েছে, তা অনেক সময়েই আমরা খেয়াল করি না।
2
10
অনেকের মতেই এটি নিছকই একটি সামাজিক প্রথা। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা লেহেঙ্গার মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বাইকের দু'দিকে পা দিয়ে বসা বেশ কঠিন ও অস্বস্তিকর। তা ছাড়া, পোশাক বাইকের চাকা বা চেনে জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
3
10
পাশাপাশি, বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে দু'পা ফাঁক করে বাইকে বসা এখনও বহু সমাজে 'অনুপযুক্ত' বা 'অশোভন' বলে মনে করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বসা কম বিপজ্জনক। বরং এক পাশে পা রেখে বসলে সামান্য ভারসাম্য হারালেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
4
10
পাকিস্তানের প্রথম মহিলা হিসেবে একা মোটরসাইকেলে দেশ ভ্রমণকারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জেনিথ ইরফানের একটি ব্যাখ্যা থেকে নতুন তথ্য জানা যায়।
5
10
জেনিথের দাবি, বাইকে এক পা একপাশে রেখে বসার এই রীতি দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব কোনও সংস্কৃতি নয়। বরং এটি ব্রিটিশ আমলের এক অদ্ভুত ‘অভ্যেস’।
6
10
তাঁর মতে, এই পদ্ধতির সূত্রপাত হয়েছিল চতুর্দশ বা পঞ্চদশ শতাব্দীতে। সে যুগে বোহেমিয়ার রাজকুমারী অ্যান ঘোড়ার পিঠে দু পা একই দিকে রেখে বসতেন।
7
10
এভাবে তিনি ইউরোপজুড়ে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে পুরুষদের মতো দু পা দুই দিকে দিয়ে ঘোড়ায় বসা মহিলাদের জন্য 'অশালীন' বলে মনে করা হতো।
8
10
জেনিথ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংস্কৃতি আদতে দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্য নয়। ভারতের বীর যোদ্ধা ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের কথাই ধরা যাক- তিনি ঘোড়ার পিঠে দু পা দু দিকে আড়াআড়ি করে রেখেই বহু যুদ্ধ জয় করেছিলেন।
9
10
কিন্তু পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনকালে তাদের অনেক অনুশাসনই এই অঞ্চলে শেকড় গাড়ে। মোটরসাইকেলের প্রচলন হওয়ার পরেও মহিলারা ঘোড়ায় চড়ার সেই পুরনো ভঙ্গিটিই বাইকের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শুরু করেন।
10
10
যে অভ্যাসটিকে অনেকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বলে মনে করেন, তা আসলে ঔপনিবেশিক আমলেরই অনুকরণ। এটি একদিকে যেমন আধুনিক জীবনের সঙ্গে বেমানান, অন্যদিকে তেমনই জীবনের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ।