কোলন ক্যানসার বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসার অনেক সময় নীরবে শরীরে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ডান দিকের কোলন ক্যানসারকে চিকিৎসকরা 'সাইলেন্ট' বা নীরব রোগ বলেই উল্লেখ করছেন।
2
12
এই ধরনের ক্যানসারের লক্ষণ প্রথমদিকে খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। ফলে অনেক সময় রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে, যা বিপজ্জনক হতে পারে।
3
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডান দিকের কোলনে টিউমার তৈরি হলে তা ধীরে ধীরে ভেতরে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। কিন্তু এই রক্ত বাইরে সহজে দেখা যায় না, তাই রোগী বুঝতেই পারেন না কী হচ্ছে। এ কারণেই এই ক্যানসারকে 'নীরব' বলা হয়।
4
12
চিকিৎসকরা এই ক্যানসারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত তুলে ধরেছেন।
5
12
অজানা কারণে রক্তাল্পতা: শরীরে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণ হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
6
12
দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা বা পেট ব্যথা: অনেকেই গ্যাস বা হজমের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি এই সমস্যা সপ্তাহের পর সপ্তাহ থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
7
12
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া: কোনও ডায়েট বা ব্যায়াম না করেও যদি দ্রুত ওজন কমে, তা গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে।
8
12
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন: যেমন বারবার ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অসম্পূর্ণ পরিষ্কার হওয়ার অনুভূতি। এই পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
9
12
অস্বাভাবিক ক্লান্তিঃ শরীরে শক্তি না থাকা বা সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা অনেক সময় লুকিয়ে থাকা ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
10
12
চিকিৎসকদের মতে, ডান দিকের কোলন ক্যানসারের লক্ষণগুলো সাধারণত হালকা হওয়ায় মানুষ এগুলোকে গুরুত্ব দেন না। অন্যদিকে, বাম দিকের ক্যানসারে অনেক সময় রক্ত মলত্যাগের সঙ্গে দেখা যায়, ফলে দ্রুত ধরা পড়ে।
11
12
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪৫ বছরের বেশি বয়স হলে বা পরিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। কারণ, শুরুতেই ধরা পড়লে এই ক্যানসার অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
12
12
সবমিলিয়ে, দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা, হঠাৎ ওজন কমা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শই হতে পারে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উপায়।