কৃষি, সংকটগ্রস্ত অর্থনীতি আর অধিকার হারানোর যন্ত্রণাকে সামনে রেখে রাজপথে নেমে এল গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের শ্রমজীবী মানুষ। সংযুক্ত কিসান মোর্চা এবং একাধিক কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে এ রাজ্যসহ সারাদেশের প্রতিটি জেলা, ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে পালিত হল এক উত্তাল ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি।
2
9
বামপন্থী কৃষক, খেতমজুর, আদিবাসী, শিল্পশ্রমিক ও বস্তিবাসী সংগঠনগুলির হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক সুসংগঠিতভাবে যোগ দেন এই প্রতিবাদে। বর্তমানে ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা গ্রামীণ ঋণ এবং তার জেরে লাগাতার কৃষক আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা দেশবাসীকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
3
9
অন্যদিকে কাজের নিরাপত্তা ও মজুরি কমে আসা, পাশাপাশি সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণ ও কৃষিতে কর্পোরেট রাজ কায়েম হওয়ায় সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
4
9
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে এক বিশেষ দাবিপত্র পেশ করে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে যৌথ সংগঠনগুলি। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হল স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে সমস্ত ফসলের জন্য আইনি নিশ্চয়তাসহ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ধার্য করা এবং সরকারি কেনাকাটার পাকা ব্যবস্থা করা।
5
9
পাশাপাশি কৃষকদের সমস্ত বকেয়া ঋণ মকুব, আত্মহত্যাকারী কৃষক পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, এবং জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ ও কর্পোরেটমুখী ‘ল্যান্ড পুলিং’ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি তোলা হয়েছে।
6
9
বনাঞ্চলের অধিকার আইন এবং পেসা অ্যাক্টের আওতায় আদিবাসী ও স্থানীয় কৃষকদের স্বাধিকার রক্ষার বার্তা তুলে ধরে তারা মোদি সরকারের কৃষি বিপণন সংক্রান্ত জাতীয় নীতি বাতিলের দাবি জানান, যা তাদের মতে বাতিল হওয়া কৃষি আইনগুলিকেই পিছনের দরজা দিয়ে ফিরিয়ে আনার এক চক্রান্ত।
7
9
শ্রমিক স্বার্থে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের আনা চারটি শ্রম কোড বাতিলের স্পষ্ট দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে সমস্ত শ্রমিকের জন্য মাসে অন্তত ৪২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি আইনিভাবে নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।
8
9
গ্রামীণ আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজকে পুনরুজ্জীবিত করে বছরে অন্তত ২০০ দিনের কাজ এবং খেতমজুরদের জন্য দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও বীজ খাতের বেসরকারীকরণ বিল ২০২৫ প্রত্যাহার এবং জোর করে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধের দাবিতেও সোচ্চার হয়ে ওঠেন প্রতিবাদীরা।
9
9
সেই সাথে ভারতীয় খাদ্য নিগমকে শক্তিশালী করা, সারের কালোবাজারি রুখে ভর্তুকি বহাল রাখা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমজনতাকে স্বস্তি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছে মোর্চা। মোদি সরকারের এই শ্রম ও কৃষকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে পরিবারসহ সব স্তরের মানুষকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি।