ক্যানসার। শব্দটি শুনলেই যেন আতঙ্কে গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে ভয়। এই মারণব্যাধি মহামারির চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পৃথিবীতে মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ ক্যানসার। ক্রমশ লাফিয়ে বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। আর এই মারণ রোগকে ঠেকাতে এবার নতুন আশার আলো দেখলেন বিজ্ঞানীরা।
2
10
এতদিন ক্যানসারের চিকিৎসা বলতে বোঝাত সাধারণত কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা অপারেশন, যেখানে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন পদ্ধতির কথা বলছেন, যা পুরো ধারণাটাকেই বদলে দিতে পারে।
3
10
ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলার বদলে তাকে আবার স্বাভাবিক কোষে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে, এমনটাই মত গবেষকদের।
4
10
দক্ষিণ কোরিয়ার এক দল গবেষকরা এই নতুন আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন একটি বিশেষ 'মলিকিউলার সুইচ' বা ছোট্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা ঠিক করে একটি কোষ কখন স্বাভাবিক থাকবে আর কখন ক্যানসার কোষে পরিণত হবে।
5
10
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা খুব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যেমন সিঙ্গল-সেল আরএনএ সিকোয়েন্সিং। এর মাধ্যমে তারা প্রতিটি কোষের ভেতরের পরিবর্তন খুব সূক্ষ্মভাবে দেখতে পেরেছেন।
6
10
তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, একটি নির্দিষ্ট সময় বা ধাপ রয়েছে, যখন সুস্থ কোষ ধীরে ধীরে ক্যানসার কোষে বদলে যেতে শুরু করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিকেই তাঁরা ধরতে পেরেছেন।
7
10
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এই সময়টিতে যদি সঠিকভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, তাহলে কোষটিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ, ক্যানসার কোষকে 'রিসেট' করে দেওয়া যায়। যেমন মোবাইল বা কম্পিউটার হ্যাং করলে রিস্টার্ট করলে ঠিক হয়ে যায়।
8
10
এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে ক্যানসার কোষকে মারতে হয় না। ফলে শরীরের ভাল কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমরা জানি, কেমোথেরাপির সময় চুল পড়া, দুর্বলতা, বমিভাব-এসব সমস্যা হয়, কারণ সুস্থ কোষও নষ্ট হয়। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম হতে পারে।
9
10
তবে এই গবেষণা এখনও একেবারে শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের শরীরে এটি কতটা নিরাপদ এবং কতটা কার্যকর, তা জানতে আরও অনেক পরীক্ষা দরকার।
10
10
তবুও এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো ক্যানসারের চিকিৎসা আরও সহজ, নিরাপদ এবং কম কষ্টের হবে। এই গবেষণা সেই ভবিষ্যতের দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।