ভারতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হতে পারে ক্যানসারের ওষুধ! কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তে কতটা স্বস্তি পাবেন রোগীরা?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৯ অক্টোবর ২০২৬ ২০ : ২৫
শেয়ার করুন
1
10
ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে রোগী ও তাঁদের পরিবার। বিশেষ করে দামি ওষুধ কিনতে গিয়ে বহু পরিবারকে বিপুল আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়।
2
10
এই পরিস্থিতিতে ক্যানসারের চিকিৎসাকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক মার্জিন বা ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হবে।
3
10
এর ফলে সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলির দাম সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে রোগীদের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমতে পারে।
4
10
ক্যানসারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন এবং অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধের খরচও অনেক সময় পরিবারের উপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে হলে বারবার ওষুধ কেনার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
5
10
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে নিয়মিত মূল্যনিয়ন্ত্রণের আওতায় না থাকা নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ওষুধের সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রেড মার্জিন ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ করা হবে। অর্থাৎ, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা থেকে শুরু করে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক মার্জিনের কারণে ওষুধের দাম যাতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
6
10
এত দিন কিছু ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনোর সময় দাম অনেকটাই বেড়ে যেত। জাতীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)-র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ওষুধে গড় ট্রেড মার্ক-আপ প্রায় ১৭০ শতাংশ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই বিপুল ব্যবধান কমাতেই নতুন পদক্ষেপ।
7
10
সরকারের প্রত্যাশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ক্যানসারের ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো বিক্রয়মূল্য বা এমআরপি (MRP) প্রায় ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে সব ওষুধের দাম সমান হারে কমবে না।
8
10
এই মুহূর্তে সমস্ত ক্যানসারের ওষুধের দাম একসঙ্গে কমে যাচ্ছে, এমনটা নয়। নতুন নিয়মের আওতায় কোন কোন ওষুধ আসবে, তা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ওষুধের তালিকা সুপারিশ করার কথা বলা হয়েছে।
9
10
প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক, দেশীয় ও আমদানি করা এবং পেটেন্টযুক্ত ও পেটেন্টবিহীন—বিভিন্ন ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সেগুলি নির্ধারিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে কোন রোগী কতটা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কোন ওষুধগুলি এই নিয়মের আওতায় আসছে তার উপর।
10
10
দাম কমানোর পাশাপাশি ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্যানসারের চিকিৎসায় নির্দিষ্ট ওষুধের অভাব হলে রোগীদের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বর্তমান উৎপাদনের মাত্রা বজায় রাখার শর্ত রাখার কথা জানানো হয়েছে।