২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের ঠিক আগে রবিবাসরীয় ভারতের শেয়ার বাজারে দেখা গেল এক মিশ্র ছবি। সাধারণত রবিবার বাজার বন্ধ থাকে। তবুও আজ বিশেষ লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা নামলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। লগ্নিকারীদের মধ্যে এক ধরণের সাবধানী ও থমথমে ভাব স্পষ্ট।
2
8
বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স সকালে ১০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি কিছুটা নিম্নমুখী ছিল।
3
8
এদিন সেনসেক্সের শেয়ারগুলোর মধ্যে সান ফার্মা, ভারত ইলেকট্রনিক্স ও এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক লাভের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে, ইনফোসিস ও টাটা স্টিলের মতো বড় সংস্থাগুলির শেয়ার দর কিছুটা কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার আগে বাজারে এই অস্থিরতা স্বাভাবিক, যে কোনও দিকে বড় সড় পরিবর্তন আসতে পারে।
4
8
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আজ টানা নবমবারের মতো বাজেট পেশ করছেন। সেই কারণেই আজ শেয়ার বাজার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও বিদেশি মুদ্রা ও ঋণপত্রের বাজার বন্ধ আছে। গত এক বছরে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের বাজার খুব একটা ভালো ফল করেনি। নিফটি বেড়েছে মাত্র ৭.৮ শতাংশ। বিদেশি লগ্নিকারীদের টাকা তুলে নেওয়া এবং সংস্থাগুলোর মুনাফা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
5
8
বাজেটে আমদানি শুল্ক কমানোর জল্পনায় ঝপঝপিয়ে দাম কমেছে সোনা ও রুপোর। রাতারাতি বিশ্ব বাজারে বড় পতনের জেরে আজ ঘরোয়া বাজারেও সোনা ও রুপোর দাম প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।
6
8
গত বৃহস্পতিবার পেশ হওয়া আর্থিক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি ৭.৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আগামী বছর এই হার কিছুটা কমে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
7
8
প্রসঙ্গত ২০০০ সালের পর এই প্রথমবার বাজেট পেশ হবে রবিবার। অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক যুক্তি। বাস্তবে, এই রবিবারটি ভারতের আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “কর্মদিবস”-এ পরিণত হতে চলেছে।
8
8
২০১৭ সাল থেকে কেন্দ্র সরকার বাজেট পেশের তারিখ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এগিয়ে এনে ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল নতুন আর্থিক বছর শুরুর আগে- অর্থাৎ ১ এপ্রিলের পূর্বেই- সংসদে বাজেট সংক্রান্ত সমস্ত আইনগত অনুমোদন সম্পন্ন করা। এতে করে নীতিনির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হয়।