দু'টি জ্যোতির্লিঙ্গ, চারটে শক্তিপীঠ এবং আধ্যাত্মিক শক্তির বিচ্ছুরণকারী হাজার হাজার প্রাচীন মন্দিরের কথা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার। কিন্তু, মুখে হিন্দুত্বের জিগির তুললেও কাজে ঠিক তার উল্টো! আর্থিক বরাদ্দের চিত্রই সেকথা স্পষ্ট করছে। মাত্র তিন বছরেই রাজ্য সরকার মন্দির সংস্কার ও পুনরুদ্ধার বাজেট প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়েছে। রাজ্যের সরকারি ঋণ বৃদ্ধিকে এর জন্য দায়ী করেছে।
2
8
বিধানসভায় লিখিত উত্তরে সরকারের তরফে জানান হয়েছে যে, মন্দির সংরক্ষণের জন্য অনুমোদিত এবং মুক্তিকৃত তহবিল বছরের পর বছর ক্রমাগত কমছে। ২০২৩-২৪ সালে, সরকার- সংস্কার ও পুনরুদ্ধার কাজের জন্য ১২,০৫,৭৩,৬১০ টাকা অনুমোদন করেছে এবং ১১,৯৯,৭৩,৬১০ টাকা বরাদ্দ করেছে। ২০২৪-২৫ সালে, অনুমোদিত পরিমাণ কমে ৮,৩৫,৭৩,৩৬৭ টাকা হয়েছে, যার মধ্যে ৮,২৮,৫৫,৩৬৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে যা আরও কমেছে। মাত্র ৪,১১,৯০,০৫৯ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল এবং ৩,৯৮,৫৮,৬৭৯ টাকা ছাড়া হয়।
3
8
অর্থাৎ, তিন বছরে মন্দির সংস্কার ও পুনরুদ্ধার বাজেট অনুমোদিত হওয়ার পরিমাণ প্রায় ৭.৯৪ কোটি টাকা কমেছে। ব্যয় কমেছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এর ফলে মন্দির সংস্কার বাজেট প্রায় ৬৬ থেকে ৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা কার্যকরভাবে ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।
4
8
বিধানসভার উত্তরে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকার মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ২২,০৯৮ সরকার-পোষিত মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ করে। এর মধ্যে ২,৫৩৬ মন্দির শুধুমাত্র উজ্জয়িনী জেলায় অবস্থিত। তবুও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে। ৪ কোটি টাকারও কমে কীভাবে গোটা রাজ্যের মন্দিরগুলো সংস্কার করা যায় তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
5
8
বিধানসভায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে, সংস্কৃতি, পর্যটন, ধর্মীয় ট্রাস্ট এবং দান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) ধর্মেন্দ্র লোধি মধ্যপ্রদেশের আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধির উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, মধ্যপ্রদেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমাদের রাজ্যে দু'টি জ্যোতির্লিঙ্গ, চারটে শক্তিপীঠ এবং অনেক পবিত্র স্থান রয়েছে যা মানবতার জন্য ইতিবাচক শক্তি বিকিরণ করে। সরকার ২২,০০০-এরও বেশি মন্দিরের সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনরুজ্জীবনের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে।” মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, পুরোহিতদের সম্মানীক হিসাবে ২১.৯৬ কোটি টাকা এবং প্রয়াগরাজ, অযোধ্যা, কাশী এবং কামাখ্যা ভ্রমণের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রীর তীর্থযাত্রা প্রকল্পের অধীনে ৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
6
8
তবে, সংস্কার বরাদ্দ হ্রাস সম্পর্কে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মন্দির পুনরুজ্জীবনের জন্য বরাদ্দ কমানোর দাবি "সঠিক নয়"। বিধানসভার লিখিত পরিসংখ্যান এবং মন্ত্রীর দাবির ব্যবধান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
7
8
কংগ্রেস মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, “এই সরকার ঈশ্বর, ধর্ম এবং মন্দিরগুলিকেও প্রতারণা করতে শুরু করেছে। সংস্কার বাজেট দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। ১২ কোটি টাকা থেকে মাত্র ৪ কোটি টাকায়, এটাই সরকারের আসল চেহারা। তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে এটা কীভাবে ধর্মের সেবা।”
8
8
এই কাটছাঁট এমন এক সময়ে করা হয়েছে যখন মধ্যপ্রদেশের সরকারি ঋণ এবং ঋণের চাহিদা বাড়ছে। সমালোচকদের যুক্তি, মন্দির সংস্কার আর্থিক খরচের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। যদিও সরকার দাবি করে যে, সমস্ত মন্দির সরাসরি তহবিল পায় না। অনেকগুলি স্বাধীন ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়। তবুও এটাই সত্য যে, সরাসরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অধীনে মন্দিরগুলির জন্য, অনুমোদিত এবং মুক্তিপ্রাপ্ত তহবিল উভয়ই ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে।