ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই মনেই ফল খাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। কারণ ফলে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ থাকে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা ঠিক নয়।
2
10
ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি খাবার। এতে থাকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রচুর ফাইবার, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
3
10
ডায়াবেটিস থাকলে সব ফল একইভাবে খাওয়া উচিত নয়। কিছু ফল বেশি উপকারী, আবার কিছু ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর রাখতে হয়।
4
10
চিকিৎসকদের মতে, যেসব ফলে ফাইবার বেশি এবং চিনি তুলনামূলক কম, সেগুলি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভাল। যেমন-আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, কমলা, মাল্টা, কিউই, পেঁপে এবং স্ট্রবেরি বা ব্লুবেরির মতো বেরি জাতীয় ফল।
5
10
এই সব ফল ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেয় না। বিশেষ করে পেয়ারা ও আপেলকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভাল ফলগুলির মধ্যে ধরা হয়।
6
10
অন্যদিকে, আম, আঙুর, কলা, আনারস, সবেদা এবং তরমুজের মতো ফলে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এই ফলগুলো খাওয়ার সময় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে তার মানে এই নয় যে এগুলো একেবারেই খাওয়া যাবে না। অল্প পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে খেলে ডায়াবেটিস রোগীরাও এসব ফল খেতে পারেন।
7
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। কারণ ফলের জুস বানানোর সময় অনেকটা ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে চিনি দ্রুত প্রবেশ করে এবং ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
8
10
ফল খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। খালি পেটে বেশি মিষ্টি ফল না খেয়ে খাবারের পরে বা বাদাম, দই, ছানা ইত্যাদির সঙ্গে ফল খেলে সুগারের ওঠানামা কম হয়। এতে শরীর ধীরে ধীরে এনার্জি পায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেটও ভরা থাকে।
9
10
আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা। যে ফল একজনের জন্য উপকারী, তা অন্য কারও ক্ষেত্রে সুগার কিছুটা বাড়াতে পারে। তাই নতুন কোনও ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা ভাল।
10
10
ডায়াবেটিস থাকলেও ফল খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। বরং সঠিক ফল নির্বাচন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ফল শরীরের জন্য উপকারীই হবে।