দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী বগলামুখী, দুর্গার এই রুদ্ররূপের পুজোয় মিলবে মহাফল
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ : ০০
শেয়ার করুন
1
15
হিন্দু তন্ত্র ও শক্তিসাধনার এক শক্তিশালী দেবী হলেন মা বাগলামুখী। তিনি দশমহাবিদ্যার অষ্টম রূপ।
2
15
এই বছর বগলামুখী জয়ন্তী ২৪ এপ্রিল। যদিও অষ্টমী তিথি শুরু হয়ে গিয়েছে ২৩ এপ্রিল রাত ৮ টা ৪৯ মিনিট থেকে৷ ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টা ২১ মিনিট পর্যন্ত বগলামুখী জয়ন্তী থাকবে৷
3
15
মা বগলামুখী মূলত সুরক্ষা, শক্তি ও শত্রুনাশের দেবী হিসাবে পূজিত হন। সমস্ত চিন্তা, উদ্বেগ, ভয় দূর করেন মা বগলামুখী৷
4
15
মা বগলামুখীর পুজো করলে অন্তর্শক্তি জাগ্রত হয়৷ তাঁর প্রতীক ও রূপের মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ।
5
15
মা বাগলামুখীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকগুলির মধ্যে একটি হল হলুদ রং। এই রং সূর্যের শক্তি, জ্ঞান এবং জীবনীশক্তির প্রতীক।
6
15
মা বগলামুখীকে পীতাম্বরা বলা হয়৷ বিশ্বাস করা হয়, যেমন সূর্যের আলো অন্ধকার দূর করে, তেমনি মা বাগলামুখী জীবনের নেতিবাচকতা দূর করে ইতিবাচক শক্তি আনেন।
7
15
হলুদ রঙ জ্ঞানের প্রতীক৷ বগলামুখী আমাদের অন্তরের আলোয় উদ্ভাসিত করে৷ চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বচ্ছতা আনে৷
8
15
হলুদ রং পবিত্রতা ও মানসিক স্বচ্ছতার প্রতীক, তাই বগলামুখীর পূজায় হলুদ ফুল, কাঁচা হলুদ দেবীর উদ্দেশে অর্পণ করা হয়৷
9
15
দেবীরূপের অন্যতম লক্ষ্যণীয় বিষয়, মা বগলামুখী অসুরের জিহ্বা ধরে আছেন। এটি কেবল শক্তির প্রকাশ নয়, বরং গভীর প্রতীকী অর্থ বহন করে। মা বগলামুখী শত্রুদের নিয়ন্ত্রণ করেন৷
10
15
জিভ আমাদের বাকশক্তির প্রকাশক৷ মানুষ শব্দের মাধ্যমে ভালবাসা, ঘৃণা, ক্ষোভ প্রকাশ করে৷ তাই পরনিন্দা বা নেতিবাচক চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। মা বাগলামুখী ভক্তদের শেখান যে, ভুল কথা বা অন্যকে ক্ষতি করার মতো আচরণ থেকে নিজেকে সংযত রাখা উচিত।
11
15
বগলামুখীর হাতে থাকা গদা বা মুগুর শক্তি, কর্তৃত্ব এবং সুরক্ষার প্রতীক। মা দুর্গার রুদ্ররূপ দেবী বগলামুখী৷ গদা বা মুগুর দ্বারা দেবী ভক্তদের রক্ষা করেন এবং শত্রু বা নেতিবাচক শক্তিকে দমন করেন। এটি ন্যায় ও শৃঙ্খলারও প্রতীক—যা আমাদের জীবনে সঠিক পথ অনুসরণ করতে শেখায়।
12
15
মা বাগলামুখীর অন্যতম প্রধান শক্তি হল স্তম্ভন শক্তি (Stambhana Shakti)। এই শক্তির মাধ্যমে তিনি অশুভ শক্তি, শত্রুতা ও নেতিবাচক চিন্তাকে থামিয়ে দেন।
13
15
এই অশুভ শক্তি নাশ করার অর্থ কেবল বাইরের শত্রু নয়, মনের ভেতরের ভয়, উদ্বেগ বা বিভ্রান্তিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করেন দেবী বগলামুখী। ফলে ভক্তরা মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস লাভ করেন।
14
15
হলুদ পোশাক পরতে হয় এবং একজন আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশনা প্রয়োজন। একটি উঁচু চৌকির উপর হলুদ কাপড় বিছিয়ে মা বাগলামুখীর মূর্তি ও তাঁর যন্ত্র স্থাপন করুন। হলুদ ফুল, হলুদ মিষ্টি, ছোলার ডাল, হলুদের কাঠি অর্পণ করুন এবং ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
15
15
মা বাগলামুখী শুধু শত্রুনাশের দেবী নন, তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ, বাকসংযমের দেবী৷ বগলামুখী মানসিক স্থিরতার প্রতীক—যিনি ভক্তদের জীবনে সুরক্ষা ও শক্তির এক অনন্য উৎস।