ধরুন, আপনার সঙ্গে কোথাও দেখা হয়ে গেল মিষ্টি একটি মেয়ের সঙ্গে। এরপর কথাও হল। তারপর কথাবার্তাও বেশ জমে উঠেছে। মনে হচ্ছে আবারও দেখা করতে চান। কিন্তু ঠিক তখনই মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে একগাদা প্রশ্ন — কীভাবে নম্বর চাইব? ও কি নম্বর দিতে চাইবে? যদি না বলে? যদি ওর ইতিমধ্যেই বয়ফ্রেন্ড থাকে?
2
15
আপনি একা নন। এই অস্বস্তি বা নার্ভাসনেস অনেকেরই হয়। কিন্তু সম্পর্কের শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আত্মবিশ্বাস, সম্মান আর স্বাভাবিক যোগাযোগ। কীভাবে সেই মুহূর্তটা সহজ করে তোলা যায়, তারই কয়েকটি টিপস রইল।
3
15
পরস্পরের সঙ্গে মনের যোগাযোগ তৈরি করুন! কোনও মেয়েই হঠাৎ করে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর কাউকে দিতে চান না।সেই জায়গায় পৌঁছতে হলে আগে তৈরি করতে হয় একটা ছোট্ট কিন্তু সত্যিকারের যোগাযোগ।
4
15
সাধারণত এ ক্ষেত্রে তিনটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ— দু’জনের কিছু মিল থাকা, আপনি বিশ্বাসযোগ্য কি না সেই অনুভূতি তাঁর মনে উঁকি মারা এবং আড্ডার মধ্যে হালকা রোমান্টিক আবহ তৈরি হওয়া।
5
15
ও হ্যাঁ, কথা বলার সময় একটা সহজ হাসি অনেক কাজ করে। হাসি কিন্তু ভীষণ ছোঁয়াচে—এটা মুহূর্তেই পরিবেশকে স্বাভাবিক করে দেয়। তবে অবশ্যই কারণে হাসবেন। অকারণে বেশি হাসলে অন্য প্রান্তের কাছে কী বার্তা যাবে, সেটা নিশ্চয়ই জানেন।
6
15
নিজের জীবনের একটু গল্প বলুন তাঁকে। কারণ শুধু প্রশ্ন করলেই হবে না। তাই নিজের সম্পর্কেও কিছু বলুন। মানুষ তখনই কাছাকাছি আসে, যখন উল্টোদিকের মানুষটা কেমন, সেটা সে প্রাথমিক বুঝতে পারে।
7
15
শৈশবের ছোট্ট কোনও মজার স্মৃতি তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিন না। সেটা নিজের পোষা প্রাণী নিয়ে গল্প হতে পারে অথবা পরিবার বা ভাইবোন নিয়ে আবেগঘন কিছু।
8
15
নিজের স্বপ্ন বা কাজ নিয়ে সত্যি কথা বলতে পারেন প্রথম আলাপেই। তাঁর শুনে সেসব ভাল লাগলে, ইপ্সিত ফোন নম্বরটিও জলদি আপনার ফোনে ঢোকার সম্ভাবনা আসবে।
9
15
এরপর হালকা মজা, ফ্লার্ট আর আন্তরিকতার একটা সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করুন আপনাদের আড্ডার পরিবেশে ।
10
15
আর হ্যাঁ, অবশ্যি আত্মবিশ্বাসী থাকুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলা, সোজা ভঙ্গিতে দাঁড়ানো, স্থির কণ্ঠে কথা বলা—এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।গবেষণাও বলছে, অনেক নারী আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্টভাষী পুরুষদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হন। তাই অতিরিক্ত ভাবনা না করে স্বাভাবিক থাকুন।
11
15
এরপর কথাবার্তা জমে উঠলেই টুক করে নম্বর চেয়ে ফেলতে পারেন। তবে হ্যাঁ, চাওয়ার সঠিক সময়টা বোঝা খুব জরুরি। যদি দেখেন, সে আপনার কথা শুনে হাসছে, নিজের থেকেও প্রশ্ন করছে তাহলে বুঝবেন তিনি কথোপকথনে আগ্রহী। বুঝবেন সেই মুহূর্তটাই সঠিক।
12
15
তাই সেই সময় খুব স্বাভাবিকভাবে বলতে পারেন— “তোমার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগল। যদি আপত্তি না থাকে, তোমার নম্বরটা পেলে মাঝে মাঝে কথা বলা বা কোথাও দেখা করার পরিকল্পনা করা যায়।”
13
15
আবার সরাসরি নম্বর চাইতে শেষমুহূর্তে খানিক লজ্জা লাগলে তাঁর ফোনে কোনও কিছু শেয়ার করার অজুহাত ব্যবহার করুন। এটা খুব স্বাভাবিক অথচ মজার একটি কৌশল। কথার মাঝে হয়তো বললেন, “একটা মজার ভিডিও আছে, তোমাকে পাঠালে নিশ্চয়ই ভাল লাগবে।” তারপর সহজেই বলতে পারেন, “নম্বরটা দিলে পাঠিয়ে দিই?” এতে পরিস্থিতিও কিন্তু অনেক স্বাভাবিক থাকে।
14
15
তবে হ্যাঁ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সম্মান। যদি মেয়েটি নম্বর দিতে না চায়, তাহলে একেবারেই জোর করবেন না। অহেতুক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবেন না। বরং হাসিমুখে কথোপকথন শেষ করুন। এর জন্য একটা সহজ বাক্যই যথেষ্ট—“কোনও সমস্যা নেই, তোমার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগল।” কারণ সম্মান দেখানোই আসলে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
15
15
কোনও সম্পর্কের শুরুটা আসলে খুব ছোট একটা মুহূর্ত থেকেই হয়। একটা হাসি, কয়েকটা সহজ কথা, আর একটু আত্মবিশ্বাস। নম্বর চাওয়াটা তখন আর অস্বস্তিকর লাগে না, বরং হয়ে ওঠে একেবারে স্বাভাবিক।