অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পরেও কি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি? স্ক্রিনে ফুটে উঠছে ‘Under Process’ কিংবা ‘Payment Failed’-এর মতো বার্তা? এমন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের অন্ত নেই বহু আবেদনকারীর।
2
14
অনেক ক্ষেত্রেই এর জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, কেওয়াইসি, আধার লিঙ্ক কিংবা এনপিসিআই ম্যাপিংয়ের ত্রুটিকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু টাকা না আসার পেছনে কি কেবল ব্যাঙ্কের সমস্যা দায়ী, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ?
3
14
সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যেই কোটি কোটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই পর্ব শেষে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।
4
14
তবে টাকা পৌঁছানো নিয়ে যে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা দিচ্ছে রাজ্য অর্থ দপ্তরের ‘সোশ্যাল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’-এর প্রশাসনিক নির্দেশিকা।
5
14
মূলত পাঁচটি প্রশাসনিক রিপোর্টের মাধ্যমে টাকা আটকে যাওয়া, ঠিকানার অমিল কিংবা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি চিহ্নিত করা যায়।
6
14
মনে রাখা জরুরি, এগুলি কেবল প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। সাধারণ আবেদনকারীরা সরাসরি এই রিপোর্ট দেখতে পাবেন না। নির্দিষ্ট আধিকারিকই আপনার আবেদন পরীক্ষা করে আসল সমস্যাটি জানাতে পারবেন।
7
14
১) টাকা না এলে কি ধরে নিতে হবে আবেদন বাতিল?
‘ফ্রিজড পেমেন্ট রিপোর্ট’- এর মাধ্যমে মূলত প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত কারণে আটকে থাকা অর্থপ্রদানের বিষয়গুলি চিহ্নিত করা হয়। ফলে স্ক্রিনে ‘Payment Failed’ দেখানোর অর্থই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনটি কোন স্তরে আটকে রয়েছে- যাচাই পর্বে, নাকি অনুমোদন পাওয়ার পর লেনদেনে- তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
8
14
২) আগের কিস্তি পেলেও পরের কিস্তি বন্ধ?
অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথম কিস্তির টাকা মিললেও পরবর্তী ক্ষেত্রে টাকা মেলেনি। এর কারণ হতে পারে ‘ইরেগুলার পেমেন্ট রিপোর্ট’। টাকা পাঠাতে সমস্যা হলে এই রিপোর্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
9
14
৩) বিয়ের পর ঠিকানা বদলেই কি সমস্যা?
বিয়ের পর জায়গা পরিবর্তনের ফলে ভোটার কার্ড, আধার কিংবা রেশন কার্ডে আলাদা ঠিকানা থেকে যাওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এর ফলে ‘অ্যাড্রেস মিসম্যাচ রিপোর্ট’-এ নাম আসতে পারে। ঠিকানা না মিললেই আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। বিডিও (BDO), এসডিও (SDO) বা পুর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের সুযোগ আছে।
10
14
৪) একই পরিবারে একাধিক আবেদনকারী?
‘ডিডিুপ্লিকেশন বেনিফিশিয়ারি রিপোর্ট’-এর মূল কাজ হলো এক ব্যক্তির নামে একাধিক ‘বেনিফিশিয়ারি আইডি’ তৈরি হয়েছে কি না তা শনাক্ত করা। একই পরিবারের দুই যোগ্য মহিলা আলাদাভাবে আবেদন করলে তাঁদের আবেদন ‘ডুপ্লিকেট’ বলা চলে না। ভুল করে এক ব্যক্তির একাধিক পরিচিতি তৈরি হলে তবেই প্রশাসনিক স্তরে তা সংশোধন করা হয়।
11
14
৫) সব ঠিক থাকলেও কেন শুরু হচ্ছে না টাকা পাওয়া?
আবেদনকারী সবদিক থেকে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় টাকা পাওয়া শুরু হয় না। নির্দেশিকায় একে বলা হয়েছে ‘সাইলেন্ট গ্যাপ’। এই ধরনের ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা হয় ‘স্কিম ইনক্লুশন রিপোর্ট’-এর মাধ্যমে। উল্লেখ্য, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকায় বিডিও এবং শহরে এসডিও-র যাচাইয়ের পর জেলাশাসকের অনুমোদন মিললেই অর্থপ্রদান শুরু হয়। কলকাতা পুর এলাকার ক্ষেত্রে এই দায়িত্বে থাকেন পুর আধিকারিক ও কমিশনার।
12
14
সমস্যা সমাধানে আবেদনকারী কী করবেন? টাকা না আসার নির্দিষ্ট কারণ জানতে বিডিও, এসডিও বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
13
14
এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি- অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও জমা দেওয়া রসিদ, ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড, নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর, নিজের নামে থাকা আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত তথ্য।
14
14
অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা না পৌঁছানোর পেছনে নির্দিষ্ট একাধিক কারণ থাকতে পারে। প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য অনুসন্ধান করে পদক্ষেপ করলেই জটিলতা কাটানো সম্ভব।