পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। তবে ইদানীং বহু আবেদনকারীরই এক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
2
16
সরকারি পোর্টালে অথবা ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে আবেদনপত্রটি 'DBT Approved' অর্থাৎ সরাসরি অনুমোদন পেয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও মাসের নির্দিষ্ট দিনে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না নির্ধারিত অর্থ।
3
16
সাধারণ মানুষ একে পোর্টাল বা প্রশাসনিক কারিগরি ভুল বলে মনে করলেও, গোড়ার গলদ কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যাঙ্ক পোর্টালের অভ্যন্তরীণ জটিলতায়। মূল কোন ৫টি কারণে ‘DBT Approved’ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও আটকে যেতে পারে সরকারি অর্থ? আর তার স্থায়ী সমাধানই বা কী?
4
16
ডিবিটি অনুমোদিত হওয়ার অর্থ হলো, রাজ্য সরকার টাকা পাঠাতে প্রস্তুত। তবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া-র নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি সুবিধার টাকা সরাসরি জমা হয় সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, যেটি আধার নম্বর এবং NPCI-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
5
16
১) অ্যাকাউন্ট তৈরির সময়ে কেবল আধার সংযোগ থাকাই যথেষ্ট নয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটিকে ডিবিটি অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত করে তুলতে হয়। NPCI লিঙ্ক বন্ধ থাকলে পোর্টাল থেকে টাকা পাঠানো হলেও ব্যাঙ্ক তা ফেরত পাঠায়।
6
16
এক্ষেত্রে, নিজস্ব ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে Aadhaar Seeding বা NPCI Mapper Form (Annexure-I) জমা দিয়ে ডিবিটি পরিষেবা সক্রিয় করিয়ে নিতে হবে।
7
16
২) প্রকল্পের নিয়ম মেনে সরকারি সাহায্য সরাসরি আবেদনকারীর একক অ্যাকাউন্টে পাঠানো বাধ্যতামূলক।
আবেদন ফর্মে যদি কোনও জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিংবা স্বামীর সঙ্গে থাকা অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া থাকে, তবে সরকারি কোষাগার থেকে পাঠানো ডিবিটি অর্থ বাতিল হতে পারে।
8
16
পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে নিজের সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিন এবং তা আধারের সঙ্গে যুক্ত করিয়ে নিন।
9
16
৩) অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সীমা বা কেওয়াইসি সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে সরকারি অর্থ জমার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিন লেনদেন না হলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি ‘Inoperative’ বা ‘Dormant’ হয়ে পড়ে। তা ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে খোলা পুরনো অ্যাকাউন্টকে সাধারণ অ্যাকাউন্টে রূপান্তর না করলে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি টাকা জমা হওয়া সম্ভব নয়।
10
16
অবিলম্বে ব্যাঙ্কে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে এবং অ্যাকাউন্টটি সচল রাখতে হবে।
11
16
৪) বর্তমানে এক ব্যক্তির একাধিক ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকা স্বাভাবিক ঘটনা। আবেদনপত্রে যে ব্যাঙ্কের তথ্য দেওয়া হয়েছে, দেখা গেল আধার নম্বরটি অন্য কোনও ব্যাঙ্কের সঙ্গে NPCI ম্যাপ করা রয়েছে। ফলে আবেদনপত্রে উল্লেখিত অ্যাকাউন্টে টাকা না গিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে তা জমা হয় অথবা তথ্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়।
12
16
আপনার আধার নম্বরটি ঠিক কোন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সর্বশেষ NPCI ম্যাপ করা রয়েছে, তা UIDAI বা NPCI-এর পোর্টালে গিয়ে পেমেন্ট স্ট্যাটাস যাচাই করে নিন।
13
16
৫) কখনও কখনও সমস্যা আবেদনকারীর স্তরে থাকে না। বরং সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেও সময় লাগে।
রাজ্য অর্থ দপ্তর থেকে কোটি কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এক দফায় টাকা না পাঠিয়ে পর্যায়ক্রমে লট মারফত ব্যাঙ্কে পাঠানো হয়। পোর্টালে অনুমোদন দেখালেও ট্রেজারি থেকে 'Lot Clearance' হতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে।
14
16
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ঠিক থাকলে কেবল লট ক্লিয়ার হওয়া বা পরবর্তী দফায় অর্থ ছাড়ের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
15
16
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় রয়েছে কি না কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে? নিজের ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ বা পোর্টালের 'Aadhaar Seeding Status' অপশনে গিয়ে স্ট্যাটাস পরীক্ষা করা সম্ভব। এছাড়া সরাসরি ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে এনপিসিআই ম্যাপারের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
16
16
পেমেন্ট বাউন্স বা বাতিল হলে সেই বকেয়া অর্থ কি পরবর্তী সময়ে পাওয়া যায়? হ্যাঁ। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও এনপিসিআই তথ্য যথাযথভাবে সংশোধন করা হলে, পরবর্তী পেমেন্ট সাইকেলে আটকে থাকা বকেয়া অর্থ কোষাগার থেকে পুনরায় অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।