বীজেই লুকিয়ে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি, গ্রামবাসীরা সুস্থ থাকতে ভরসা রাখেন এই ফলে, চেনেন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ : ২৩
শেয়ার করুন
1
7
শহরের বাজারে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু গ্রামের পুকুর বা জলাশয়ের আশপাশে দেখা মেলে এক বিশেষ জলজ উদ্ভিদের। নাম কুমুদিনী। এই গাছের ফল দেখতে গোল ও সবুজ। ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট বীজ। উত্তরপ্রদেশের গোঁডা জেলার গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এই বীজ খাওয়ার চল রয়েছে। এমনকি শুকিয়ে এই বীজ দিয়ে হালুয়াও তৈরি করা হয়।
2
7
স্থানীয়ভাবে কুমুদিনীকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। পুকুরের জলে পাতা ও ফুলের সঙ্গে এই উদ্ভিদ ভাসতে দেখা যায়। ফলের ভিতরের বীজ কাঁচাও খাওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। আবার বীজ শুকিয়ে সংরক্ষণ করে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়। গোঁডার স্থানীয় বৈদ্যদের মতে, বহুদিন ধরে গ্রামীণ খাদ্যাভ্যাস ও লোকজ চিকিৎসায় এই বীজের ব্যবহার রয়েছে।
3
7
স্থানীয়দের মতে, কুমুদিনীর বীজে বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই শরীরের দুর্বলতা কাটাতে এবং শরীরে শক্তি জোগাতে এটি খাওয়া হয়ে থাকে। তবে কোনও শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ফলকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।
4
7
কুমুদিনীর বীজের সঙ্গে হজমশক্তি ভাল রাখার একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় পেটের অস্বস্তি বা হজমের সমস্যায় এটি ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিছু জায়গায় ডায়রিয়ার মতো সমস্যাতেও এর ব্যবহার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই।
5
7
কুমুদিনীর বীজে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও খনিজ রয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই কারণে হাড় মজবুত রাখতেও এটি উপকারী বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে হাড়ের কোনও রোগ বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে শুধু কুমুদিনীর উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
6
7
কিছু ঐতিহ্যগত ব্যবহারে কুমুদিনীকে শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ভালো ঘুমে সহায়ক বলে মনে করা হয়। তবে ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
7
7
গোঁডার গ্রামাঞ্চলে কুমুদিনীর বীজ সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি শুকিয়ে হালুয়া তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। এই খাবারটি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির একটি অংশ। হয়ে উঠেছে। কুমুদিনীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গ্রামবাংলা ও উত্তর ভারতের পুরনো খাদ্যাভ্যাস এবং লোকজ চিকিৎসার ইতিহাস। তবে প্রচলিত স্বাস্থ্যগুণকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।