রাজনীতিতে প্রতীক দখলের লড়াই নতুন নয়। কিন্তু সেই লড়াইয়ের কোপ যে এসে পড়বে হাওড়ার পতাকা তৈরির কারখানায়, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি রাজু হালদার।
2
8
নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নিতেই কার্যত মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে উনসানী দক্ষিণ পাড়ার কারিগরেরা।
3
8
উপনির্বাচন ও আসন্ন পুরভোটকে পাখির চোখ করে তৈরি করে রাখা লক্ষ লক্ষ তৃণমূলের পতাকা এখন তাঁদের কাছে নিছকই কাপড়ের টুকরো। বিপুল এই আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারগুলির।
4
8
হাওড়ার উনসানীর হালদার পরিবার বহু বছর ধরেই নানা রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পতাকা তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, তাঁদের হাতে তৈরি পতাকা পাড়ি দেয় অন্যান্য রাজ্যেও। তবে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ভোটের আগে ব্যস্ততা পৌঁছয় চরমে।
5
8
সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন, তারপরই পুরভোট। তাই ঝুঁকি নিয়েই আগেভাগে লক্ষাধিক জোড়াফুল আঁকা পতাকা তৈরি করে গুদামে মজুত রেখেছিলেন রাজুবাবু। অঙ্কটা সহজই ছিল, দলের ভিতরে যে গোষ্ঠীই শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকুক না কেন, শেষমেশ ‘প্রতীক’ তো একটাই থাকবে, ফলে পতাকার চাহিদাও কমবে না।
6
8
কিন্তু হিসাব উল্টে গিয়েছে কমিশনের এক নির্দেশ। তৃণমূলের দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে জোড়াফুল চিহ্নটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরোটাই এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। যে পতাকা একসময় রকেটের গতিতে বিক্রি হতো, আজ তা বাতিলের খাতায়। কারখানার মালিক রাজু হালদার নিজের দুশ্চিন্তা লুকিয়ে রাখতে পারেননি।
7
8
উদ্বেগের কণ্ঠে তিনি জানান, "উপনির্বাচনের কথা ভেবেই অনেক বেশি মাল বানিয়েছিলাম। এখন হঠাৎ শুনছি প্রতীকটাই নাকি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে! এত টাকার মজুদ করা পতাকা নিয়ে এখন আমরা কী করব, কিছুই মাথায় আসছে না। মারাত্মক আর্থিক লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে আছি।" তাঁর স্পষ্ট কথা, যদি কমিশন দ্রুত এই প্রতীকের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে এই ক্ষতি সামলে উঠে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
8
8
কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন চেয়ে রয়েছেন উনসানীর এই প্রস্তুতকারক পরিবার। রাজনীতির ময়দানে কার জয় বা কার পরাজয় হবে, তা সময় বলবে; কিন্তু আপাতত দলীয় দ্বন্দ্বের বলিকাঠিতে পড়ে কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন হাওড়ার এই পতাকা তৈরির কারিগররা।