কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য গঠিত ৮ম পে কমিশনের কাজ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। ৩ নভেম্বর ২০২৫-এ কমিশন গঠনের পর প্রায় ১১ মাস পূর্ণ হতে চলেছে।
2
12
সম্প্রতি ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে বৈঠক শেষ করেছে কমিশন। এবার অক্টোবর মাসে বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
3
12
এই বৈঠকগুলিতে কর্মী সংগঠন, ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন স্বীকৃত সংগঠন নিজেদের দাবি, সমস্যা ও মতামত কমিশনের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন সংস্কার-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা।
4
12
এই পরিস্থিতিতেই কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধারের বর্তমান ১৫ বছরের মেয়াদ কমিয়ে ১১ বছর করার দাবি তুলল ভারত পেনশনার্স সমাজ।
5
12
কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনারদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অবিনাশ রাজপুত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৮ম পে কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং পেনশন ও পেনশনার্স কল্যাণ দফতরের কাছে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানিয়েছেন।
6
12
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ওল্ড পেনশন স্কিমের আওতাভুক্ত যোগ্য কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা অবসরের সময় তাঁদের বেসিক পেনশনের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিউট করতে পারেন।
7
12
এর বিনিময়ে তাঁরা এককালীন অর্থ পান। এরপর কমিউট করা অংশটি মাসিক পেনশন থেকে বাদ যায় এবং ১৫ বছর পর তা ফের মাসিক পেনশনে যুক্ত হয়।
8
12
এই ১৫ বছরের মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অ্যাকচুয়ারিয়াল হিসাব-নিকাশ বহু পুরনো। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বর্তমান কমিউটেশন টেবিলও ১ জানুয়ারি ২০০৬ থেকে কার্যকর। এর পর সুদের হার, ডিসকাউন্ট রেট, আয়ু এবং মৃত্যুহারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।
9
12
পেনশনার সংগঠনটি জানিয়েছে, ৫৮ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কমিউটেশন ফ্যাক্টর ঐতিহাসিক ১০.৪৬ থেকে বর্তমানে ৮.১৯৪-এ নেমে এসেছে। তাই নতুন করে অ্যাকচুয়ারিয়াল পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
10
12
কমিউটেশন ফ্যাক্টর, সুদের হার, ডিসকাউন্ট রেট, মৃত্যুহারের তথ্য এবং প্রকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের সময়—সবকিছু খতিয়ে দেখে নতুন হিসাব করা হোক।
11
12
সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৫ বছরের বদলে আপাতত ১১ বছরকে পুনরুদ্ধারের মেয়াদ করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি সিসিএস প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সম্ভব হলে সেই সুবিধা বর্তমান পেনশনারদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
12
12
তবে শেষ পর্যন্ত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ৮ম পে কমিশনের সুপারিশের উপর।