রাজ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পাওয়ার জন্য লক্ষাধিক মহিলা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ হয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ফর্মটি খুঁটিয়ে দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাজ্য সরকার এবার আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না।
2
8
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন যে, এই প্রকল্পে যাতে কোনও 'বেনোজল' বা অযোগ্য ব্যক্তি ঢুকে পড়তে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। সেই উদ্দেশ্যেই এবার শুধু আবেদনকারী নন, বরং তাঁর পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সম্পর্কে অত্যন্ত খুঁটিনাটি তথ্য দাবি করছে সরকার। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পরই বিবেচনা করা হবে যে, সংশ্লিষ্ট পরিবারটি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার আদৌ যোগ্য কি না।
3
8
প্রকাশিত ফর্মে পরিবারের প্রধান সদস্য বা বাড়ির কর্তার পরিচয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ফর্মে পরিবারের প্রধানের পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে রেশন কার্ডের আইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আবেদনকারীর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং পরিবারের প্রধানের সঙ্গে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক কী, তাও ফর্মে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
4
8
আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যেমন— ব্যাঙ্কের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড ফর্মে দিতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তথ্যও চাওয়া হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের (এপিক) নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্র এবং পার্ট নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
5
8
স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফর্মে পরিবারের সব সদস্যের স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে; বিমাটি সরকারি নাকি বেসরকারি এবং তার অঙ্ক কত, তাও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বর এবং তাঁদের পেশাগত তথ্য— অর্থাৎ কে সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করেন কিংবা ব্যবসা করেন, সেই সমস্ত বিবরণ দেওয়ার জন্য ফর্মে আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে।
6
8
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সরকার তথ্য সংগ্রহ করছে। পরিবারের সদস্যরা শিক্ষিত নাকি নিরক্ষর এবং তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু, তা ফর্মে জানাতে হবে। পরিবারে কোনও শিশু সদস্য থাকলে, তার নাম, সে সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুলে পড়ে, এমনকি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে কি না, সেই তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
7
8
এর পাশাপাশি, পরিবারের কোনো সদস্য আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি সুবিধা বা ভাতা পাচ্ছেন কি না, তাও স্পষ্ট করতে হবে। মূলত, সবদিক খতিয়ে দেখে তবেই উপভোক্তা নির্বাচন করতে চায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে এই সুবিধার যোগ্য, তাঁরাই যাতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।
8
8
এই কড়াকড়ির জেরে বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক তালিকায় থাকা অন্তত ৩০ লক্ষ নাম অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।