ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অক্ষয় তৃতীয়া একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই দিনটিকে শুভ মনে করে বহু মানুষ সোনা কেনেন—যেন তা ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে ২০২৬ সালে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, শুধু সোনা নয়, রূপোর দিকেও নজর দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।
2
8
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, যেমন মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত, এবং ক্রমবর্ধমান স্ট্যাগফ্লেশন আশঙ্কা—এই সবই সোনার দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী ১২ মাসে সোনার দাম ১০-১৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আকর্ষণ এখনও অটুট।
3
8
তবে এখানেই শেষ নয়। রূপো বা সিলভার, যা অনেক সময় সোনার “ছোট ভাই” হিসেবে দেখা হয়, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বাড়তি সুযোগ তৈরি করছে। কারণ, রূপোর ব্যবহার শুধু অলংকারে নয়, শিল্পক্ষেত্রেও ব্যাপক—বিশেষ করে সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো দ্রুত বর্ধনশীল খাতে। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বা শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে রূপোর চাহিদা দ্রুত বাড়ে।
4
8
এখানেই রূপোর বড় সুবিধা—এটি “ডুয়াল বেনিফিট” দেয়। একদিকে এটি সোনার মতোই একটি নিরাপদ সম্পদ, অন্যদিকে শিল্পচাহিদার কারণে এর দাম দ্রুত বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বুল মার্কেটে রূপোর রিটার্ন সোনার চেয়ে বেশি হয়েছে।
5
8
তবে ঝুঁকির কথাও মাথায় রাখতে হবে। রূপোর দাম সোনার তুলনায় বেশি ওঠানামা করে, অর্থাৎ এটি বেশি ভোলাটাইল। ফলে স্বল্পমেয়াদে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই রূপোতে বিনিয়োগ করার সময় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি রাখা জরুরি।
6
8
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সুষম পোর্টফোলিও গড়তে গেলে শুধু সোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে রূপোকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি আপনার কমোডিটি বিনিয়োগের ৭০% সোনায় রাখেন, তাহলে বাকি ৩০% রূপোতে রাখতে পারেন। এতে ঝুঁকি কিছুটা বাড়লেও সম্ভাব্য রিটার্নও বাড়বে।
7
8
এছাড়া, ডিজিটাল গোল্ড, সিলভার ইটিএফ বা সোভেরেন গোল্ড বন্ডের মতো আধুনিক বিনিয়োগ মাধ্যমও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে নিরাপত্তা বাড়ে এবং সংরক্ষণের ঝামেলাও কমে।
8
8
সবশেষে বলা যায়, এই অক্ষয় তৃতীয়ায় বিনিয়োগের সময় শুধু প্রথাগত ভাবনায় আটকে না থেকে একটু ভিন্নভাবে ভাবা দরকার। সোনা এখনও নিরাপদ, কিন্তু রূপো যোগ করলে আপনার পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় হতে পারে। সঠিক ভারসাম্যই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।