আজকাল অনেক রাজ্যেই ধাপে ধাপে স্মার্ট প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার বসানো হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
2
14
তবে এখনও বহু গ্রাহকের মনে একটি বড় প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে—স্মার্ট মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে কি সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়? অনেকেই মনে করেন, মোবাইলের রিচার্জ শেষ হওয়ার মতোই টাকা ফুরোলেই বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সরকারি নিয়ম সেই ধারণাকে সমর্থন করে না।
3
14
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্মার্ট মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না। গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ রিচার্জ করতে কিছুটা সময় হাতে পান গ্রাহক।
4
14
নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের বাড়িতে ১ কিলোওয়াট লোডের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, তাঁদের মিটারের ব্যালেন্স শূন্যের নিচে চলে গেলেও টানা ৩০ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু থাকবে।
5
14
অন্যদিকে, যাঁদের ২ কিলোওয়াট লোডের সংযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ ব্যালেন্স হওয়ার পরও পরিষেবা বন্ধ করা হয় না। ফলে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও হঠাৎ করে অন্ধকারে বসে থাকার আশঙ্কা থাকে না।
6
14
ব্যালেন্স নেগেটিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থা গ্রাহকের মোবাইলে একাধিক সতর্কতামূলক এসএমএস বা নোটিফিকেশন পাঠাতে শুরু করে। এই সময়ের মধ্যে গ্রাহককে রিচার্জ করে ব্যালেন্স স্বাভাবিক করার সুযোগ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, নেগেটিভ ব্যালেন্স পজিটিভ করতে মোট ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়।
7
14
এতেই শেষ নয়। ৩০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ কাটা হয় না। গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত ৩ দিনের ‘এমার্জেন্সি ক্রেডিট পিরিয়ড’ রাখা হয়েছে।
8
14
অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও যদি রিচার্জ না করা হয়, তবেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
9
14
এছাড়াও গ্রাহকদের অযথা হয়রানি এড়াতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিকেল ৫টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা যাবে না।
10
14
শুধু তাই নয়, রবিবার, মাসের দ্বিতীয় শনিবার, সরকারি ছুটির দিন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময়েও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। ফলে রাতের বেলা বা ছুটির দিনে বিদ্যুৎ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।
11
14
যদি নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে আলাদা করে আবেদন করার দরকার হয় না।
12
14
গ্রাহক নিজের মোবাইল ফোন থেকেই স্মার্ট মিটারে রিচার্জ করতে পারেন। রিচার্জ সফল হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হয়ে যায়। কোনও কর্মীকে বাড়িতে এসে সংযোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
13
14
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট মিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়া। মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে ব্যালেন্স, বিদ্যুৎ খরচ এবং রিচার্জের তথ্য দেখা যায়। ফলে আগে থেকেই ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বুঝে রিচার্জ করে নেওয়া সম্ভব হয়।
14
14
তাই স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিয়মিত ব্যালেন্স পরীক্ষা করা এবং সময়মতো রিচার্জ করা। এতে যেমন বিদ্যুৎ পরিষেবা নির্বিঘ্ন থাকবে, তেমনই অপ্রত্যাশিতভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও এড়ানো যাবে।