আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহু দশক ধরেই টানাপোড়েনের। ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি হলেও রাজনৈতিক অবিশ্বাস, সীমান্ত বিরোধ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতায় ফেরার পর সম্পর্ক নতুন করে জটিল হয়েছে।
2
10
প্রথম ও প্রধান কারণ হল ডুরান্ড লাইন। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে নির্ধারিত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত। পাকিস্তান এই সীমান্তকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানলেও আফগানিস্তানের বহু সরকার, এমনকি তালিবান প্রশাসনও, এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি। ফলে সীমান্ত ঘেঁষে প্রায়ই গোলাগুলি ও সংঘর্ষ ঘটে।
3
10
দ্বিতীয় বড় কারণ হল জঙ্গি গোষ্ঠী। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান অতীতে তালিবানকে সমর্থন দিয়েছে এবং এখনও তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে।
4
10
এছাড়া সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়েও বিরোধ রয়েছে। পাকিস্তান নিরাপত্তার অজুহাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তুলছে, কিন্তু আফগান পক্ষ দাবি করে এটি বিতর্কিত অঞ্চলে একতরফা পদক্ষেপ।
5
10
আফগানিস্তান ঐতিহাসিকভাবে নিজেকে স্বাধীন নীতির দেশ হিসেবে দেখে এবং পাকিস্তানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে চায় না। অন্যদিকে পাকিস্তান চায় তার পশ্চিম সীমান্ত নিরাপদ থাকুক এবং সেখানে ভারতবিরোধী কৌশলগত ভারসাম্য বজায় থাকুক।
6
10
২০২১ সালে তালিবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন পাকিস্তান-আফগান সম্পর্ক উন্নত হবে। কিন্তু বাস্তবে সীমান্ত হামলা ও টিটিপি ইস্যুতে উত্তেজনা বেড়েছে।
7
10
সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানে নিয়মিত সেনাবাহিনী প্রায় ৬ লাখের বেশি সক্রিয় সদস্য নিয়ে গঠিত। তাদের কাছে আধুনিক ট্যাংক, যুদ্ধবিমান (যেমন এফ-১৬), নৌবাহিনী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। পাকিস্তান একটি ঘোষিত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।
8
10
অন্যদিকে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক তালিবান মূলত একটি গেরিলা-ভিত্তিক বাহিনী থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর তারা কিছু আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে বটে, তবে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধতা আছে। নিয়মিত বিমান বাহিনী বা শক্তিশালী নৌবাহিনী কার্যত নেই।
9
10
সংখ্যা, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত সক্ষমতার বিচারে পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় বহুগুণ বেশি। বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতা পাকিস্তানকে আঞ্চলিকভাবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
10
10
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সংঘাত মূলত সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফল। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম হলেও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে পারে। সামরিক শক্তির তুলনায় পাকিস্তান স্পষ্টভাবে এগিয়ে, তবে আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান ও গেরিলা কৌশল দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।