হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ তিথি হিসেবে বিবেচিত। ভগবান শিবের প্রিয় মাস শ্রাবণে পড়া এই পূর্ণিমার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
2
11
এই দিন স্নান, দান, জপ, তপস্যা এবং ঈশ্বরের আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। একই সঙ্গে বহু স্থানে এই তিথিতেই পালিত হয় রাখীপূর্ণিমা উৎসব।
3
11
২০২৬ সালে শ্রাবণ পূর্ণিমা পালিত হবে ২৮ অগাস্ট। ২৭ অগাস্ট সকাল ৯ টা ৮ মিনিট থেকে শুরু করে ২৮ অগাস্ট সকাল ৯ টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণিমা তিথি থাকবে৷
4
11
শ্রাবণ পূর্ণিমায় সন্ধে ৬ টা ৫৮ মিনিটে শুভ মুহূর্ত কারণ এই সময় পূর্ণচন্দ্র মাঝ আকাশে উজ্জ্বল হয়ে দেখা যাবে৷ চন্দ্রদেবের উদ্দেশ্যে দুধ, গঙ্গাজল, ফুল অর্পণ করে প্রার্থনা করা অত্যন্ত শুভ৷
5
11
এই তিথিতে ভোরে পবিত্র নদী বা গঙ্গাজলে স্নান করে দান-পুণ্য করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সৎকর্মের ফল বহু গুণ বৃদ্ধি পায় এবং পাপক্ষয় হয়।
6
11
শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের আরাধনার জন্য সর্বাধিক শুভ বলে মনে করা হয়। পূর্ণিমার দিনে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা, ধুতুরা ও আকন্দ ফুল নিবেদন করলে শিবের বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে।
7
11
অনেক ভক্ত এই দিন উপবাসও পালন করেন এবং 'ওঁ নমঃ শিবায়' মন্ত্র জপ করেন। যদিও শাস্ত্রমতে এই মন্ত্র সারাবছর যখন মন চাইবে তখনই বলা যায়।
8
11
এই দিনে সূর্যোদয়ের আগে বা সকালে পবিত্র স্নান করে দরিদ্র ও অভাবী মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ, ফল, শস্য বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, স্নান-দানের মাধ্যমে পূর্বজন্মের পাপক্ষয় হয় এবং জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
9
11
শ্রাবণ পূর্ণিমার দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন। বাড়ির পূজাস্থান বা শিবমন্দিরে গিয়ে ভগবান শিবের পুজো করুন। শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, মধু ও বেলপাতা অর্পণ করুন।
10
11
এরপর ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে শিব চালিসা বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করতে পারেন। সন্ধ্যায় চন্দ্রদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করাও শুভ বলে ধরা হয়।
11
11
অনেক ভক্ত চন্দ্রদর্শনের পর ব্রত ভঙ্গ করেন এবং চন্দ্রদেবকে জল অর্পণ করে পরিবারের সুখ-শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করেন।