বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা ব্যক্তিগত কারণে নাম পরিবর্তন—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সঙ্গে আধার কার্ডের তথ্যেও অনেক সময় সংশোধনের প্রয়োজন হয়। নাম, পদবি বা ঠিকানা পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলি আধার কার্ডে সঠিকভাবে আপডেট করা জরুরি।
2
13
কারণ আধার বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, সিম কার্ড, সরকারি সুবিধা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে আধারে পুরনো তথ্য থাকলে পরবর্তীতে বিভিন্ন পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
3
13
বিয়ের পর অনেকেই স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন অথবা আধার কার্ডে স্বামীর নাম ও নতুন ঠিকানা যুক্ত করতে চান। এই ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি নথি জমা দিতে হয়।
4
13
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বিদ্যমান পরিচয়পত্রের পাশাপাশি সরকারি ভাবে ইস্যু করা বিবাহের শংসাপত্র গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে পাঠানো OTP-এর মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই করা হতে পারে।
5
13
বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করতে চাইলে সরকারি ভাবে ইস্যু করা বিবাহের শংসাপত্র প্রয়োজন। ছবি-সহ বিবাহের শংসাপত্র থাকলে সেটি নাম, ঠিকানা এবং দাম্পত্য সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
6
13
তবে বিবাহের শংসাপত্রে ছবি না থাকলে অতিরিক্ত বৈধ পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই আধার আপডেটের আগে নথিতে ছবি এবং অন্যান্য তথ্য স্পষ্ট রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
7
13
অন্যদিকে, বিবাহবিচ্ছেদের পর কেউ যদি স্বামীর পদবি বাদ দিয়ে নিজের আগের নাম বা পদবিতে ফিরে যেতে চান, সেক্ষেত্রে আদালতের নথি গুরুত্বপূর্ণ।
8
13
সাধারণত সংশ্লিষ্ট ফ্যামিলি কোর্টের জারি করা বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি বা ডিভোর্স ডিক্রি জমা দিতে হয়। সেই নথিতে ছবি না থাকলে আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র চাওয়া হতে পারে।
9
13
বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন ব্যক্তিগত কারণে কেউ নাম পরিবর্তন করতে চাইলে নিয়ম কিছুটা আলাদা। এই ধরনের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নাম পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি প্রয়োজন হতে পারে।
10
13
নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর সংশোধিত নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়। এরপর সেই গেজেট বিজ্ঞপ্তি নাম পরিবর্তনের সরকারি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
11
13
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গেজেট বিজ্ঞপ্তি মূলত পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটিকে সরাসরি ঠিকানা, বাবা-মায়ের সম্পর্ক বা জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এই ধরনের তথ্য পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্যের সমর্থনে আলাদা বৈধ সরকারি বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।
12
13
তাই আধার আপডেট করার আগে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি। ভুল, অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট নথি জমা দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
13
13
বিশেষ করে নাম, ছবি, ঠিকানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন জমা দেওয়া নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। আধারে তথ্য সঠিক ও আপডেটেড রাখলে ব্যাঙ্কিং, সরকারি পরিষেবা, সিম সংক্রান্ত কাজ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।