৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন বর্তমানে পরামর্শ ও আলোচনা পর্বে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী, কর্মী সংগঠন, ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের মতামত ও দাবি-দাওয়া শুনছে কমিশন।
2
13
অক্টোবর মাসেও বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার পরেই বেতন, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করবে কমিশন।
3
13
৮ম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারেন।
4
13
এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী রয়েছেন। এছাড়াও প্রতিরক্ষা ও রেলকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও এর আওতায় থাকবেন।
5
13
৮ম পে কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। কমিশনের সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন, যিনি প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক। অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর পুলক ঘোষ, যিনি ফিনান্সের অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর ইকোনমিক অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের সদস্য।
6
13
কমিশনের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো, পে ম্যাট্রিক্স, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বিভিন্ন ভাতা, ডিয়ারনেস অ্যালাওয়েন্স, ডিয়ারনেস রিলি, HRA, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুবিধা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করা।
7
13
৮ম পে কমিশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে। কর্মী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বেশি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি উঠেছে।
8
13
বিভিন্ন দাবিতে ১.৮৩ থেকে ৩.৮৩ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের কথা বলা হচ্ছে। তবে এগুলি কর্মী সংগঠন ও বিভিন্ন মহলের দাবি বা প্রত্যাশা। ৮ম পে কমিশন এখনও কোনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত করেনি।
9
13
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গাণিতিক গুণক, যার মাধ্যমে পুরনো বেসিক পে-কে সংশোধিত বেসিক পেতে গুণ করা হয়। সহজ সূত্র হল— বর্তমান বেসিক পে × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = নতুন বেসিক পে।
10
13
৭ম পে কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে ৭,০০০ বেসিক পে ২.৫৭ দিয়ে গুণ করলে প্রায় ১৮,০০০ নতুন বেসিক পে হয়।
11
13
৩ নভেম্বর ২০২৫-এ ৮ম পে কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে সুপারিশ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা মে ২০২৭।
12
13
এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সুপারিশগুলি অনুমোদন করলে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অতীতের প্রবণতা অনুযায়ী, সুপারিশের পর সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।
13
13
ফলে ২০২৭ সালে সুপারিশ এলেও বেতন ও অন্যান্য সুবিধার সম্পূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে ২০২৯ বা ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।