কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং টার্মস অব রেফারেন্স এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
2
13
ফলে কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দেরি হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায়।
3
13
সাধারণত নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার প্রায় দুই বছর আগে কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করেনি।
4
13
কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় রিপোর্ট তৈরির কাজও শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে গোটা সময়সূচি পিছিয়ে যাচ্ছে।
5
13
যে বিষয়গুলির উপর কমিশন সুপারিশ করবে, সেগুলি নির্ধারণ করা হয় টার্মস অব রেফারেন্সের মাধ্যমে। বেতন, ভাতা, পেনশন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এখনও এই গুরুত্বপূর্ণ নথি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে কমিশন গঠিত হলেও কাজ শুরু করতে সময় লাগতে পারে।
6
13
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। বর্তমানে কাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এবং রাজকোষীয় ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সরকার।
7
13
তাই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ চলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
8
13
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ইতিমধ্যেই ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং ভাতা কাঠামোয় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
9
13
উদাহরণস্বরূপ, কিছু সংগঠন ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ টাকা করার দাবি তুলেছে এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৬৮ থেকে ৩.৮০ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই দাবিগুলির আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করতে সরকারের অতিরিক্ত সময় লাগছে।
10
13
বেতন কমিশন গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রক, বিভাগ, কর্মচারী সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়। এরপর সুপারিশ তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়।
11
13
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি করতে সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। ফলে কমিশন গঠনে যত বেশি দেরি হবে, বাস্তবায়নও তত পিছিয়ে যেতে পারে।
12
13
যদিও অষ্টম বেতন কমিশনের প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় ধীর গতিতে এগোচ্ছে, তবুও কেন্দ্র সরকার এখনও কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেনি। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা আশা করছেন, শীঘ্রই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং কমিশনের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
13
13
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আরও দেরি হয়, তাহলে ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। তবে অতীতের মতো বকেয়া দিয়ে পরে তা কার্যকর করার পথও খোলা থাকতে পারে। ফলে আপাতত কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের নজর সরকারের পরবর্তী ঘোষণার দিকেই।