অফিসে এই ৫ ধরনের সহকর্মীর থেকে সাবধান! আপনার পরিশ্রমের কৃতিত্ব নিতে পারে অন্য কেউ, চিনে নিন তাঁদের
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ নভেম্বর ২০২৬ ১৭ : ০৭
শেয়ার করুন
1
7
কর্মজীবনে সাফল্য পেতে শুধু নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং যোগ্যতা থাকলেই হয় না। কর্মক্ষেত্রে আশপাশের মানুষজনের আচরণও অনেক সময় আপনার কাজের উপর প্রভাব ফেলে। সহকর্মীদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকলে কাজের পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়, তেমনই কিছু মানুষের আচরণ মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। পাঁচ ধরনের সহকর্মীদের থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কীভাবে চিনবেন তাঁদের? জেনে নিন।
2
7
১. অন্যের কাজের কৃতিত্ব যিনি নিজের নামে চালান: অফিসে এমন কিছু সহকর্মী থাকেন, যাঁরা নিজেরা কোনও কাজ না করেও অন্যের পরিশ্রমের কৃতিত্ব নিতে পিছপা হন না। ধরুন, কোনও প্রজেক্টের জন্য আপনি দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিকল্পনা, গবেষণা—সবটাই করেছেন আপনি। কিন্তু মিটিংয়ে গিয়ে আপনারই সহকর্মী সেই কাজ নিজের বলে দাবি করলেন। এমন ঘটনা একবার ঘটলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কিন্তু বারবার ঘটলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে কাজের প্রতিটি ধাপের লিখিত রেকর্ড রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ ইমেল বা আপডেটে নিজের অবদান স্পষ্ট রাখুন। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও কাজের অগ্রগতি জানান।
3
7
২. অফিসের খবর বাইরে ছড়িয়ে বেড়ান যাঁরা: প্রতিটি অফিসেই এমন একজন বা একাধিক মানুষ থাকেন, যাঁদের কাছে প্রায় সকলের ব্যক্তিগত খবর থাকে। কে চাকরি ছাড়তে চলেছেন, কার সঙ্গে কার মনোমালিন্য হয়েছে, কে বসের উপর রেগে রয়েছেন, সব খবরই তাঁদের নখদর্পণে। প্রথমে তাঁদের সঙ্গে গল্প করতে ভাল লাগলেও পরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ, যিনি অন্যের ব্যক্তিগত কথা আপনার কাছে বলেন, তিনি আপনার কথাও অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তাই এ ধরনের সহকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কথাবার্তা কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন।
4
7
৩. ভুল করেও অস্বীকার করা: অফিসে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি নিজের ভুল স্বীকার না করে সব সময় অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেন, তা হলে সমস্যা বাড়তে পারে। আবার কোনও সমস্যা তৈরি হলে সহকর্মী বা জুনিয়রদের দোষ দিতে পারেন। এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করার সময় দায়িত্ব এবং কাজের সময়সীমা লিখিতভাবে স্পষ্ট করে রাখুন।
5
7
৪. সবসময় অন্যের সাহায্য চান যিনি: সহকর্মী বিপদে পড়লে তাঁকে সাহায্য করা অবশ্যই ভাল অভ্যাস। কিন্তু কেউ যদি প্রতিদিন নিজের কাজ অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে থাকেন, তা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রথমে হয়তো কোনও নথি দেখে দেওয়ার অনুরোধ করবেন, কখনও সামান্য সময়ের জন্য নিজের কাজ সামলাতে বলবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সাহায্যই আপনার অতিরিক্ত দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজের কাজ শেষ করার সময় পাবেন না। তাই প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে না বলতে শিখুন। নিজের কাজের সময়সীমা এবং দায়িত্বকে গুরুত্ব দিন।
6
7
৫. সব বিষয় প্রতিযোগিতা: কিছু সহকর্মী রয়েছেন, যাঁরা অন্যের সাফল্য সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না। আপনি কোনও কাজের প্রশংসা পেলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের আরও বড় সাফল্যের কথা বলতে শুরু করবেন। আপনি বেশি সময় কাজ করলে তিনি জানাবেন, তিনি তার থেকেও বেশি পরিশ্রম করেছেন। সব সময় কে বেশি ভাল, কার কাজ বেশি প্রশংসিত হচ্ছে, কে দ্রুত পদোন্নতি পাচ্ছেন, এই তুলনা চলতেই থাকে। এমন মানুষের সঙ্গে অকারণে প্রতিযোগিতায় জড়াবেন না। নিজের কাজের উপর মনোযোগ দিন। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
7
7
কর্মক্ষেত্রে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়া জরুরি নয়। বরং পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখে কেরিয়ারে অগ্রগতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজের রেকর্ড রাখুন, ব্যক্তিগত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের সীমারেখা তৈরি করার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷