ভারতীয় বয়নশিল্পের ঐতিহ্য ধারণ করে এই পাঁচ শাড়ি, পেয়েছে GI তকমাও, পুজোর আগে দেখে নিন কোনটি আপনার পছন্দ?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৫ : ০৬
শেয়ার করুন
1
6
ভারতের বস্ত্রশিল্প শুধু ফ্যাশনের অংশ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং অসংখ্য কারিগরের হাতের নিখুঁত কাজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি এমন বহু বস্ত্র রয়েছে, যেগুলি তাদের নির্দিষ্ট অঞ্চল ও ঐতিহ্যের জন্য বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটি GI ট্যাগ ভারতীয় বস্ত্র ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
2
6
বেনারসি সিল্ক, উৎসবের ঐতিহ্য:
উত্তরপ্রদেশের বেনারস বা বারাণসীর নাম উঠলেই প্রথমেই মনে আসে বেনারসি শাড়ি। মসৃণ ও বিলাসবহুল সিল্কের উপর সূক্ষ্ম ব্রোকেডের কাজ, জরি এবং নানা ধরনের বুটি ও ফুলেল নকশাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে সোনালি বা রুপোলি জরি দিয়ে তৈরি নকশা বেনারসিকে আলাদা মাত্রা দেয়। বিয়ে থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠান,ভারতীয় ফ্যাশনে বেনারসি আজও আভিজাত্যের প্রতীক।
3
6
2. কাঞ্জিভরম সিল্ক: দক্ষিণ ভারতের রাজকীয় ছোঁয়া. তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমের কাঞ্জিভরম বা কাঞ্চীপুরম সিল্ক শাড়ি তার উজ্জ্বল রং, ভারী সিল্ক এবং চোখে পড়ার মতো কনট্রাস্ট বর্ডারের জন্য বিখ্যাত।
মূল শাড়ির সঙ্গে আলাদা রঙের চওড়া পাড় এবং পাল্লু আঁচল এই বৈপরীত্যই কাঞ্জিভরমের অন্যতম আকর্ষণ। দক্ষিণ ভারতীয় বিয়ের সাজে এই শাড়ির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহ্য বজায় রেখেও আধুনিক ফ্যাশনে কাঞ্জিভরমের জনপ্রিয়তা কমেনি।
4
6
চান্দেরি, হালকা শাড়িতে রাজকীয় সৌন্দর্য: মধ্যপ্রদেশের চান্দেরি শহরের নাম থেকেই এসেছে এই বিশেষ বস্ত্রের নাম। ভারী সিল্কের তুলনায় চান্দেরি অনেকটাই হালকা এবং পরলে শরীরে আরামদায়ক লাগে। এর সূক্ষ্ম বুনন, হালকা স্বচ্ছতা এবং কোমল সৌন্দর্যই চন্দেরির মূল আকর্ষণ। চান্দেরিতে সিল্ক, কটন এবং জরি—এই উপকরণগুলির বিভিন্ন সংমিশ্রণ দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী বুটি, ফুলের নকশা এবং জরির কাজ এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
5
6
4. পোচমপল্লি ইক্কত: সুতোর মধ্যেই তৈরি হয় নকশা।
তেলঙ্গানার পোচমপল্লির ইক্কত সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কারিগরি দক্ষতার উদাহরণ। এখানে কাপড় বোনার আগে সুতোর উপরই নির্দিষ্ট অংশে রং করা হয়। এরপর সেই সুতো দিয়ে কাপড় বোনার সময় তৈরি হয় বিশেষ জ্যামিতিক নকশা। ফলে শাড়ির নকশা যেন কাপড়ের উপর আঁকা নয়, বরং সুতোর মধ্যেই আগে থেকে তৈরি করা। ইক্কতের এই ডাই করার পদ্ধতিই পচমপল্লিকে অন্য বস্ত্রের থেকে আলাদা করে।
6
6
পাটোলা: বুননের জটিলতায় অনন্য
গুজরাটের পাটান পাটোলা সম্ভবত এই তালিকার সবচেয়ে জটিল বুননশিল্পগুলির একটি। এখানে উল্লম্ব ও আনুভূমিক, দুই ধরনের সুতোতেই আগে থেকে নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী রং করা হয়। তারপর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই সুতো জুড়ে কাপড় বোনা হয়।
এই ডাবল ইক্কত পদ্ধতির কারণে প্রতিটি নকশা তৈরি করতে অসাধারণ ধৈর্য ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। ছোট্ট একটি ভুলও পুরো নকশার সামঞ্জস্য নষ্ট করে দিতে পারে। এই কারণেই পাটোলা শুধু একটি শাড়ি নয়, বরং এক অসাধারণ কারুশিল্পের নিদর্শন।