এক কাপ চায়ের জন্য কয়েক মিনিটের বিরতি। আর সেই সামান্য সিদ্ধান্তই যেন বদলে দিল পাঁচ বন্ধুর জীবনের গতিপথ।
2
16
নেপালে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার মুখে পড়েছিলেন ছত্তীসগঢ়ের পাঁচ বাসিন্দা। কিন্তু মাত্র ১০-১৫ মিনিট আগে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিলে হয়তো তাঁদের পরিণতিও ভয়াবহ হতে পারত। চায়ের দোকানে থেমে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেন তাঁরা।
3
16
ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের মানা ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ সেন, দীনেশ ওঝা, প্রেম সিং জগত, যতীন্দ্র প্রকাশ এবং দীনেশ সিং ঠাকুর—পাঁচ বন্ধুই ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সি। গত ২১ আগস্ট রায়পুর থেকে তাঁরা নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন।
4
16
পরের দিন সেখানে পৌঁছে একটি গাড়ি ভাড়া করেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল পশুপতিনাথ মন্দির, মনোকামনা মন্দির-সহ নেপালের একাধিক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা।
5
16
কিন্তু ২৬ আগস্ট সকালেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সকাল ১০টা নাগাদ নেপালের ধাদিং জেলার একটি হোটেলে চা খেতে থামেন তাঁরা।
6
16
সেখানেই জানতে পারেন, সামনের একটি সেতু বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। হোটেলটির মালিক ছিলেন এক ভারতীয় নাগরিক। তিনিই তাঁদের খাবার দিয়ে সাহায্য করেন।
7
16
৫৩ বছরের নারায়ণ সেন বলেন, “চায়ের জন্য আমরা না থামলে হয়তো ১০-১৫ মিনিট আগেই ওই রাস্তা দিয়ে চলে যেতাম। তখন কী হত, তা ভাবতেই ভয় লাগে।” তাঁর কথায়, এই সামান্য বিরতিই তাঁদের ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
8
16
পাঁচ বন্ধু পরে মালেখু এলাকায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। রাত কাটাতে হয় ভাড়া করা গাড়ির ভিতরেই।
9
16
চোখের সামনে ফুলেফেঁপে ওঠা ত্রিশূলী নদীর ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে থাকেন তাঁরা। বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবা ছিল না। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তাঁদের নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে।
10
16
পুলিশের হেড কনস্টেবল দীনেশ সিং ঠাকুর জানান, তাঁরা পশুপতিনাথ মন্দির থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ছিলেন। আচমকাই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁরা জানতে পারেন, বন্যার জলে একাধিক গ্রাম, বাড়ি, অফিস এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
11
16
ত্রিশূলী নদীর তীরে গিয়ে পরিস্থিতি নিজের চোখেও দেখেন তাঁরা। ঠাকুরের কথায়, সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁরা বারবার ভগবান শিবের নাম জপ করেছেন বলেও জানান তিনি।
12
16
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রেখেছিলেন পাঁচ বন্ধু। নেপালে ইন্টারনেট পরিষেবা সচল থাকায় তাঁরা নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ভারতীয় সরকারের হেল্পলাইনেও নিজেদের অবস্থান জানান।
13
16
২৮ আগস্ট অবশেষে নেপাল ছাড়তে সক্ষম হন তাঁরা। এর মধ্যেই ঘটে যায় এক আবেগঘন মুহূর্ত। রক্ষাবন্ধন উপলক্ষে স্থানীয় মহিলা নিরাপত্তাকর্মীরা পাঁচ বন্ধুর হাতে রাখি পরিয়ে দেন।
14
16
ঠাকুর বলেন, তাঁদের বোনেরা আগেই রাখি দিয়েছিলেন। নেপালের মহিলা নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে সেই রাখি পরার মুহূর্তটি তাঁদের কাছে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
15
16
দীনেশ ওঝা জানান, বন্যার পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে মানুষের অসহায় ছুটে বেড়ানোর দৃশ্য তাঁরা কখনও ভুলতে পারবেন না। গাড়ির ভিতর রাত কাটালেও আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেননি তাঁরা। সবসময় ভয় ছিল, ফের কোনও বন্যা এসে আঘাত করতে পারে।
16
16
এদিকে, রবিবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ভয়াবহ বন্যায় সরকারি ভাবে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪-এ পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। তিব্বতে চিনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নেপালে প্রায় ২,৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে ৫৫৪ জন-সহ প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।