২৯ এপ্রিল উদ্‌যাপিত হয় বিশ্ব নৃত্য দিবস। প্রতি বছরই এই দিনটিতে গোটা বিশ্বের মতো দেশ, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে নানা অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু এই বছর একই দিনে পড়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে এই বছরটা কীভাবে উদ্‌যাপন করছেন, নাচ তাঁদের জীবনের সঙ্গে কতটা জড়িয়ে রয়েছে, সহ নানা বিষয় নিয়ে আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথা বললেন টলিউডের স্বনামধন্য ৩ অভিনেত্রী, যাঁরা আবার নৃত্যশিল্পীও বটে!

ওয়ার্ল্ড ডান্স ডে নিয়ে কথা বলতে গিয়েই অপরাজিতা আঢ্য বলেন, "নাচ আমার জীবনে পুরোটাই। আমি তো ছন্দে বাঁচি। জীবনে ছন্দ না হলে আমি তো বাঁচতে পারব না। সুতরাং আমার জীবনে নাচ পুরোটাই। নাচ ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। আমায় সম্পূর্ণ করে আমার নাচ।" কীভাবে উদ্‌যাপন করছেন এই বছর দিনটি জানতে চাইলে অভিনেত্রী হেসে বলেন, "আজকের দিনটার জন্য আমরা তো গত এক মাস ধরেই নাচছি সবাই। আজকে ভোট না? আজকে তো ফাইনাল ডান্স পারফরমেন্স। আজকে তো সকাল থেকে আমরা নেচেই আছি।" 

অন্যদিকে সৌমিলি ঘোষ বিশ্বাস ওয়ার্ল্ড ডান্স ডে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, "আজকের দিনটি বিশেষ তো বটেই। তবে আমার কাছে ওরম আলাদা করে ওয়ার্ল্ড ডান্স ডে, মাদার্স ডে, ইত্যাদির কোনও ব্যাপার নেই। কোনও কিছুর জন্য কোনও স্পেশ্যাল ডে বলে কিছু হয় না। রোজই বিশেষ। তবে, হ্যাঁ, হয়তো আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ছবি পোস্ট করলাম বা লিখলাম। সবাই দিনটা উদ্‌যাপন করেন, ওইটুকুই।" সৌমিলির কথার সুর শোনা গেল 'মিশকা' ওরফে অহনার কণ্ঠেও। তিনি বললেন, "আমি সবসময় বলি মাদার্স ডে, ভ্যালেন্টাইনস ডে আলাদা করে হয় না। ঠিক তেমনই নাচের জন্য কোনও আলাদা দিন হয় না। তবে আগে ছোটবেলায় যতটা প্র্যাকটিস হতো, এখন ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ততটা প্র্যাকটিস হয় না।" কিন্তু আজকের দিনটির মাহাত্ম্য কতটা তাঁর কাছে? 'তারে ধরি ধরি মনে করি' ধারাবাহিকের 'কুন্তলিনী' বললেন, "মাহাত্ম্য অনেকটাই। কিন্তু এবার একটু অন্যরকম দিনে পড়ে গিয়েছে। জানি না কতটা কী করতে পারব, কতটা ট্রিবিউট দিতে পারব, তবে হ্যাঁ, চেষ্টা করব কোনও না কোনও ভাবে একটু উদ্‌যাপন করার।"

প্রসঙ্গত, সৌমিলি ঘোষ বিশ্বাসকে বর্তমানে 'পরিণীতা' ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে। ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ব্যস্ততার পরও নাচের জন্য সময় বের করতে পারেন তিনি? অভিনেত্রী বললেন, "অভিনয়ের আগে আমার নাচে আসা। ফলে এটা আমার কাছে খুবই খুবই জরুরি। তবে কাজের চাপে এখন হয়তো রোজ প্র্যাকটিস করা হয় না। বিশেষ করে এখন যেহেতু মেগা সিরিয়ালের চাপ চলছে। যখন শো আসে কোনও, তখনই প্র্যাকটিস হয়। সেটা রাত হোক, মাঝরাত হোক তখন করতেই হয়। যখন কাজের চাপ কম থাকে তখন অভ্যাস চলে বাড়িতে।" সদ্য মা হয়েই ধারাবাহিকের কাজে ফিরেছেন অহনা। তাঁরও কি সৌমিলির মতোই অবস্থা? নাচের অভ্যাসের জন্য সময় পান? জানালেন, "সেভাবে এখন নাচ না করা হলেও, এটা আমার জীবনের একটা বড় অংশ। ধরুন আমি কোনও সিন করছি, একটা মিউজিক চলল, তাতে কিন্তু আমার মনটাও নাচে।"

অভিনয়ের পাশাপাশি 'ডান্স বাংলা ডান্স' রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারক হিসেবে দেখা গিয়েছে সৌমিলিকে। অভিনেত্রী কি মনে করেন এই শোগুলো নাচকে নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে? সৌমিলির কথায়, "সব শো করে কিনা জানি না, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই শোগুলো একটা পথ তো তৈরি করেই দেয়। বিশেষ করে আমি যেহেতু ডিবিডি-তে কাজ করেছি, সেই জায়গাটা থেকে বলতে পারি কিছু ট্যালেন্ট তো নিশ্চয় আছে, তাঁরা যদি বিজয়ী হওয়ার পর বা পরিচিতি পাওয়ার পর মাটিতে পা রেখে চলে, প্র্যাকটিস বজায় রাখে তাহলে অবশ্যই তাঁরা উন্নতি করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা যেটা হয় যে জেতার পর তাঁরা কেবল শো করতে থাকেন, অভ্যাস করেন না ঠিক ভাবে, ক্লাসিক্যালকে বিশেষ গুরুত্ব দেন না। সেটা করা উচিত নয়। শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিং এঁরা সবাই কিন্তু কোনও না কোনও রিয়েলিটি শো থেকেই উঠে এসেছেন।" 

সমাজমাধ্যমে নাচের ভিডিও পোস্ট করলে অনেক সময়ই অপরাজিতা আঢ্যকে কটাক্ষ করা হয়। কেবল তিনি নয়, চলতি ভাষায় যাঁদের চেহারা স্থূল তাঁদের নাচের ভিডিওতে নানা সময়ই বিরূপ মন্তব্য আসে। এই বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন অপরাজিতা? সত্যিই কি চেহারায় কিছু যায় আসে? অভিনেত্রী বললেন, "মোটারাও অসাধারণ নাচেন। রোগা মোটার ব্যাপার নয়। তবে রোগা হলে যে মুভসগুলো খুব ভাল বোঝা যায়, মোটাদের এফোর্ট দিয়ে নাচতে হয়। নাচের মেয়ে রোগা হলে ভাল, তাহলে সহজেই নাচা যায়, আর মোটা হল অতিরিক্ত প্রেসার, এফোর্ট দিয়ে নাচতে হয়। মোটাদের যতটা ভাল লাগে, রোগাদেরও ততটাই ভাল লাগে। আর আজকাল যাঁরা নিয়মিত নাচেন বা রিল করেন তাঁদের কেউই খুব একটা রোগা নন। ওই ট্রেন্ডটা উঠে গেল। আর খুব রোগা কেউ নাচলে দেখতেও ভাল লাগে না। শত হলেও স্টেজ থেকে দেখতে হয়, সেখানে একটু ঠিকঠাক চেহারা না হলে চোখে পড়ে না।"