প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করেই বিতর্কের কেন্দ্রে বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর। সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওয় তিনি বলেন, মতপ্রকাশ বা প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার কোনওভাবেই ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
অনেক নেটিজেনই দাবি করেছেন, প্রতিবাদকারীদের পরিস্থিতি না বুঝেই 'নৈতিকতার পাঠ' পড়াচ্ছেন অভিনেত্রী। ভিডিওয় ভূমি বলেন, গণতন্ত্রে প্রত্যেক নাগরিকেরই নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই মত প্রকাশের সময় ভাষারও একটি সীমারেখা থাকা উচিত।
অভিনেত্রীর মতে, আমরা ছোটবেলা থেকে বড়দের সম্মান করতে শিখেছি। তাই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা ভারতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। প্রতিবাদ করা যায়, মতবিরোধ জানানো যায়, কিন্তু তা যেন শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে— এমনই বার্তা দেন অভিনেত্রী।
তবে ভূমির এই বক্তব্য অনেকেরই ভাল লাগেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি কেন শুধুমাত্র প্রতিবাদকারীদের ভাষা নিয়ে কথা বললেন, অথচ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করলেন না। সমালোচকদের একাংশের দাবি, দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভে নীরবতার কারণে ভূমির বক্তব্যকে অনেকেই 'একপেশে' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নেটমাধ্যমে একাধিক কটাক্ষও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ লেখেন, "এসি গাড়িতে বসে জ্ঞান দেওয়া খুব সহজ।" আবার কেউ মন্তব্য করেন, "যাঁরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন, তাঁদের বাস্তব পরিস্থিতি আগে বোঝার চেষ্টা করুন।" আরও অনেকের বক্তব্য, প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে মন্তব্য করার আগে আন্দোলনের কারণ এবং অংশগ্রহণকারীদের সমস্যার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভূমি পেডনেকর নিজের মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, জনজীবনে শালীন ভাষা ব্যবহারের পক্ষে কথা বলতেই পারেন একজন শিল্পী। এই ঘটনাকে ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর বিতর্ক চলছে।
















