প্রয়াত অভিনেতা ওম পুরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুর। এক সাক্ষাৎকারে সীমা জানিয়েছেন, তাঁদের বিয়ের ঠিক আগের দিন তাঁকে নিজের সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছিলেন ওম পুরী।
১৯৮৯ সালে বাগদানের পর পারিবারিক চাপে তাঁরা দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে ওম পুরী তাঁকে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠান। সেখানে অভিনেতা স্বীকার করেন যে, তাঁর বাড়ির পরিচারিকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। এই আকস্মিক স্বীকারোক্তিতে ভেঙে পড়লেও শেষ মুহূর্তে বিয়ে বাতিল করার সাহস পাননি সীমা।
তিনি জানান, সমস্ত নিমন্ত্রণপত্র বিলি হয়ে যাওয়ার কারণে ও পরিবারের সম্মানহানির ভয়ে তিনি পিছু হটতে পারেননি। তবে আজকের দিনে নারীরা অনেক বেশি সাহসী এবং তাঁরা প্রয়োজনে বিয়ের মণ্ডপ থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
যদিও এর পরেও ওম পুরী ও সীমার দাম্পত্য টেকেনি। পরবর্তীতে নন্দিতা পুরীর সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্কের জেরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। সীমা জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং মানসিক আঘাতের জেরে তাঁর গর্ভপাতও হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, তিনি যখন দিল্লিতে ছিলেন, তখন একদিন ফোনে ওম স্বীকার করেন যে, তিনি অন্য এক মহিলাকে ভালবাসেন। সীমা বলেন, "তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। মন ভেঙে গিয়েছিল। এরপর আমাকে ডিভোর্সের কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয়। সেই চাপের কারণে, মাত্র ৫-৬ মাসের গর্ভাবস্থায় আমার সন্তানকে হারিয়েছিলাম। আমি আমার দুঃখ এতদিন কারওর সঙ্গে ভাগ করে নিইনি। এমনকী বাবা-মায়ের কাছেও কখনও মনের অবস্থা প্রকাশ্যে আনিনি। সারাজীবন অপেক্ষা করেছি একদিন ক্ষমা চাইবে ওম। কিন্তু বেঁচে থাকতে কোনওদিন আমার কাছে মাথা নত করেনি ওম।"
















