কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান হল। ৯২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে যখন তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছিল, তখন গোটা বলিউড সেখানে ভিড় জমিয়েছিল। তবে এই বিষণ্ণ পরিবেশেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই তারকা—শাহরুখ খান এবং সলমন খানের অনুপস্থিতি।

 

 

ভারতীয় সঙ্গীতের ‘কোকিলকণ্ঠী’ আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে হাজার-হাজার কালজয়ী গান উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শিবাজি পার্কে সাধারণ মানুষ থেকে তারকাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু এত ভিড়ের মাঝেও সকলের চোখ খুঁজছিল শাহরুখ খান ও সলমন খানকে। কিন্তু সেদিন তাঁদের দেখা যায়নি। যদিও সেদিন তাঁরা দু’জনেই মুম্বইতে ছিলেন। তাঁদের অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

আশা ভোঁসলের সঙ্গে দুই খানের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার। তবে সূত্রের খবর, তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ কোনো ব্যক্তিগত মনোমালিন্য নয়, বরং ছিল সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তাজনিত। শিবাজি পার্কে আগে থেকেই সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া। এই পরিস্থিতিতে শাহরুখ বা সলমনের মতো তারকারা সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ভিড় সামলাতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সম্ভবত এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল।

শরীরে উপস্থিত না থাকলেও মানসিকভাবে যে তাঁরা আশাজির পরিবারের পাশেই আছেন, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দুই অভিনেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা এই কিংবদন্তি শিল্পীকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা দুজনেই স্বীকার করেছেন যে, আশাজির কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাঁর অভাব কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

 

শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল শেষকৃত্য। লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের চলে যাওয়া মঙ্গেশকর পরিবারের পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে কন্ঠ চলে গেলেও সুরের মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে।