বিনোদন জগতের ঝলমলে আলোর পেছনে কতটা আঁধার লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে আরও একবার উত্তাল বলিপাড়া। সৌজন্যে জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী নারায়ণী শাস্ত্রী। ‘কিউঁকি সাস ভি কাভি বহু থি’, ‘কুদুম’ বা ‘পিয়া কা ঘর’-এর মতো কালজয়ী মেগা সিরিয়ালের এই পরিচিত মুখ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিন্দি ছোট পর্দার মাদক কালচার বা ‘ড্রাগ সংস্কৃতি’ নিয়ে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন, যা শুনে হতবাক পুরো বিনোদন দুনিয়া।

ওই সাক্ষাৎকারে নারায়ণী দাবি করেন, টেলিভিশনের হাই-প্রোফাইল পার্টিগুলোতে এখন নাকি মদের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় অবৈধ মাদকের বাজেটে! নারায়ণীর কথায়, "আগে ইন্ডাস্ট্রির পার্টি মানেই সেখানে মদের আলাদা বাজেট থাকত। আর এখন আমি নিজে দেখে অবাক হয়ে গেছি যে, পার্টিগুলোতে নির্দ্বিধায় ড্রাগের জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ করা হয়!” এই বিপজ্জনক কালচারের কারণেই তিনি বহু বছর ধরে পার্টির আমন্ত্রণ এড়িয়ে চলছেন বলে জানান।

ছোট আকারের বা ব্যক্তিগত পার্টিগুলোতে কে কী ধরনের মাদক নিচ্ছে, তা নাকি প্রায় সবাই জানে। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কোকেন এবং এমডিএমএ--র মতো মারাত্মক ক্ষতিকর ড্রাগ খুবই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। 

কেবল পার্টি নয়, শুটিং সেটেও বহু নামজাদা তারকা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আসেন বলে জানান তিনি। নারায়ণী বলেন, “এমনও দিন গিয়েছে যখন একজন অভিনেতার জন্য চার ঘণ্টা ধরে ফ্লোরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু সেই তারকা ড্রাগের নেশায় এতটাই বুঁদ ছিলেন যে, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও তাঁর ছিল না! বাধ্য হয়ে প্রযোজকদের পুরো দিনের শুটিং বাতিল করতে হয়েছে।”

নারায়ণী অবশ্য নিজে সাধু সাজার চেষ্টা করেননি। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কৌতূহলবশত জীবনের কোনও একপর্যায়ে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে ড্রাগ ট্রাই করেছিলেন। তবে কোনও দিন তার প্রতি আসক্ত হননি। এমনকি কেউ যাতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাঁর পানীয়তে কিছু মিশিয়ে দিতে না পারে, সেই স্বাদ বা প্রভাব বুঝে নেওয়ার জন্যই তিনি জীবনে প্রথমবার মদ্যপান করেছিলেন!

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে বলিউডের ড্রাগ কানেকশন নিয়ে জাতীয় স্তরে তুমুল জলঘোলা হয়েছিল। কিন্তু এবার খোদ টিভি ইন্ডাস্ট্রির অভিনেত্রী যেভাবে ছোট পর্দার ভেতরের ‘ড্রাগ নেটওয়ার্ক’ ও কাজের পরিবেশকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন, তাতে নতুন করে খবরের শিরোনামে চলে এসেছে এই বিতর্ক। নারায়ণীর এই মন্তব্যের পর আপাতত নেটপাড়ায় শোরগোল চরমে।