বলিউড তারকাদের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক কখনও মধুর, কখনও তিক্ত। আর এই টানাপোড়েনের ইতিহাসে নতুন করে আলো ফেলেছে ১৯৯৩ সালের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, তরুণ সলমন খান-এর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর সাক্ষাৎকার মাঝপথেই বন্ধ করে দেন কানাডায় বসবাসকারী সাংবাদিক সুষমা দত্ত!

ভিডিওর শুরুতে সুষমা সেই সময়ের একটি চলতি প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন—ছবিটির গল্প নেই, ফলে তা চলবে না। পাল্টা প্রশ্ন করেন সলমন, “কেন চলবে না?” সাংবাদিকের জবাব আরও স্পষ্ট, “কারণ এতে কোনও গল্প নেই।” এই মন্তব্যেই দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়ে যান অভিনেতা। খানিকটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আমি তো এভাবেই ছবি করি, চিত্রনাট্য ছাড়াই।” শোনামাত্রই ওই সাংবাদিক বলে ওঠেন, “তাহলে তো পাক্কা ফ্লপ হবে এই ছবি।”

ব্যস! আর যাবে কোথায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ওই বাদানুবাদে যারপরনাই ক্লান্ত দেখাচ্ছিল সলমনকে। কিছুক্ষণ পরেই তিনি স্টুডিও ছাড়ার ইঙ্গিত দেন এবং প্রায় অনুরোধের সুরে বলেন, বাইরে তাঁর বন্ধুরা অপেক্ষা করছে - " এবার এসব শেষ হয়েছে? আমার বন্ধুরা বাইরে অপেক্ষা করছে। এবার আমাকে যেতে দাও, মা!" সাংবাদিক বলে ওঠেন, " হ্যাঁ, হ্যাঁতুমি বেরিয়ে যায় বাবু।" শেষ পর্যন্ত হাতজোড় করে নমস্কার জানিয়ে সাক্ষাৎকার শেষ করতে চান সলমন। তখনই সাংবাদিক জানান, তিনি যেতে পারেন এবং ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

 

 

ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার আগমুহূর্তে সলমনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে। তিনি বলেন, “এটাকে সাক্ষাৎকার বলে? ভারতে একবার আসুন...আমরা বড়।” তখনও ওই সাংবাদিক ক্রমাগত তাঁর ক্যামেরাম্যানদের ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েই চলেছেন। পরে আরেকটি ক্লিপে দেখা যায়, তিনি স্টুডিওর অবস্থা নিয়েও সমালোচনা করছেন – “এটা একটা স্টুডিও হল? স্টুডিও করে তোলার জন্য অনেক কাজ করতে হবে এখানে। সলমনের ওই বক্তব্য শুনে সেই সাংবাদিককে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। যদিও তার আগে সলমনকে কটাক্ষ করে তিনি বলে উঠেছিলেন, “সাক্ষাৎকারটা তো মরেই গিয়েছে মিনিট পনেরো আগেই।”

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটমাধ্যমে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া। একাংশের মতে, সাংবাদিকের মন্তব্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে তীক্ষ্ণ ছিল এবং একজন অভিনেতার কাজ নিয়ে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা পেশাগত সীমা লঙ্ঘনের শামিল। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, সলমনের প্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট কড়া ছিল এবং সেটি পেশাদার আচরণের সঙ্গে যায় না।

এই বিতর্কের মাঝেই অভিনেতার বর্তমান কাজ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। শিগগিরই তাঁকে দেখা যাবে ব্যাটেল অফ গলওয়ান ছবিতে। সেই ছবিটি পরিচালনা করছেন অপূর্ব লাখিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন চিত্রাঙ্গদা সিং।

সময়ের স্রোতে বহু ঘটনা হারিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মুহূর্ত ফিরে এসে নতুন করে প্রশ্ন তোলে, তারকা ও সংবাদমাধ্যমের  সম্পর্কের সীমারেখা কোথায়? ১৯৯৩ সালের সেই সাক্ষাৎকার হয়তো তখন চাপা পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিন দশক পরে তা যেন আবার মনে করিয়ে দিল, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মানেই সবসময় আরামদায়ক জায়গায় থাকা নয়।