অ্যাডাল্ট কনটেন্ট তৈরি করে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করে শিরোনামে এসেছিলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন পুলিশ অফিসার বেকা নিকোলস। হু হু করে বাড়ছিল ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর সমাজমাধ্যমে ফ্যান ফলোয়িং। সেই উপার্জনের টাকা দিয়ে কিনেছিলেন স্বপ্নের বিলাসবহুল অডি গাড়ি। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস—যে অর্থ আর গ্ল্যামারকে ছুঁতে তিনি নিজের সুরক্ষিত সরকারি চাকরিকে লাথি মেরেছিলেন, সেই আয়ের টাকায় কেনা গাড়িটাই আজ তাঁর জীবনের শেষ শয্যা হতে চলেছিল। সম্প্রতি এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে অলৌকিক উপায়ে প্রাণ ফিরে পেলেন বেকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি শেয়ার করে বেকা নিজেই এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, একজন চরম স্বার্থপর ও বেপরোয়া চালকের কারণেই তাঁর গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবেগে ভাসছেন প্রাক্তন এই পুলিশ কর্মী। ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, “আজ ঈশ্বর আমার সঙ্গে  ছিলেন। তিনি নিজের হাতে আমার হাত ধরে রেখেছিলেন।” দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, এত বড় ধাক্কার পরও বড় কোনও চোট পাননি তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় সামান্য আঘাত এবং শরীরে কিছু কালশিটে দাগ ছাড়া তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বেকা আরও লেখেন, “আমি কাঁদছিলাম আর শক্ত করে আমার বাবার হাত ধরে রেখেছিলেন। আজ আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। ধন্যবাদ জানাই সেই সব মানুষদের, যারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সাহায্য করেছেন এবং আমার পাশে থেকেছেন।”

ব্রিটিশ পুলিশ ফোর্সের সুরক্ষিত ও সম্মানজনক চাকরি ছেড়ে ওনলিফ্যানসে আসার সিদ্ধান্তটি বিতর্কের জন্ম দিলেও, অর্থনৈতিকভাবে বেকাকে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছিল। রাতারাতি লক্ষ লক্ষ অনুরাগী আর মোটা অঙ্কের আয় দিয়ে নিজের লাইফস্টাইল বদলে ফেলেছিলেন তিনি। কিনেছিলেন সেই দামি অডি গাড়ি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়িটির সামনের অংশ একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং এয়ারব্যাগগুলো খুলে গিয়েছে। ছবি দেখে শিউরে উঠেছেন তাঁর অনুরাগীরা। অনেকেই কমেন্ট সেকশনে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন, আবার অনেকে এই সুযোগে তাঁর পুলিশের চাকরি ছাড়ার পুরোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বেকার এই গল্পটি যেমন তরুণ প্রজন্মের একাংশের কাছে বিলাসবহুল জীবনের হাতছানি, ঠিক তেমনই অন্য পিঠে এটি একটি বড় সতর্কবার্তাও বটে। রাস্তায় অন্যের সামান্য অসতর্কতা বা বেপরোয়া গতি কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে—বেকা নিকোলসের এই অলৌকিক বেঁচে ফেরা যেন আরও একবার সেই চরম সত্যটাই মনে করিয়ে দিল।