সম্প্রতি বেহালা থানায় 'ননসেন' ওরফে শমীক অধিকারীর নামে গুরুতর অভিযোগ আনেন এক যুবতী। জানান তাঁকে ফ্ল্যাটে বন্দি করে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছেন এই জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। এরপরই বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেফতার করা হয় শমীককে। ৬ তারিখ আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। সেখানেই গোপন জবানবন্দি দেন অভিযোগকারিণী। এরপরই সংবাদমাধ্যমের কাছে গোটা ঘটনা তুলে ধরেন।
অভিযোগকারিণী এদিন শমীকের বাড়িতে কী ঘটেছিল ২ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি সেটার স্মৃতি হাতড়ে বলেন, "আমি ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় ৫টা নাগাদ শমীকের ওখানে যাই। ওখানে ওর বাবা মা ছিল, আমি সেটা শুনেই ওখানে যাই। ও জানিয়েছিল নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করছে। একদম বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে ডেকেছিল যে নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করছি, এসে দেখা করে যাস। আমি গিয়ে ওদের হাতে হাতে হেল্প করি। তারপর পরদিন কলেজ আছে বলে ৯টা নাগাদ আমি একটা ক্যাব বুক করতে যাই। তখন শমীক আমার ফোন ছিনিয়ে নেয় এটা বলে, যে এখন যাবি না। তারপর হঠাৎই আমার ফোন দেখতে শুরু করে। দেখে যে ওর বিরোধী এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আমার কথা হয়। সেটা দেখেই আমায় একটা ঘরে নিয়ে যায়। লক করে মারধর শুরু করে।"
তাঁর অভিযোগ, শমীক তাঁর বাবা-মায়ের সামনেই মারধর করেন বান্ধবীকে। বাবা-মা কিছু বলতে এলে সবাইকে মেরে ফেলার অথবা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এই ২২ বছর তরুণী জানান তাঁর চোখে আঘাত করা হয়, চোখে দেখতে পান না তিনি। ওই অবস্থায় বাড়ি যেতেও দেওয়া হয় না তাঁকে। এমনকী সকালেও বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে, সেটা না করে পাশে ঘুমিয়ে পড়েন 'ননসেন'। উল্টে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনও করেন।
পরবর্তীতে কাউকে না জানানোর অনুরোধ করে ছাড়া হয় তাঁকে। অভিযোগকারিণী বলেন, শমীক অনলাইনে তাঁর জন্য মেকআপ আনান। মেকআপ করিয়ে চোখের ক্ষত ঢেকে, মুখ মাস্কে ঢেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। কাউকে যোগাযোগ করলে খুন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ননসেন, জানালেন অভিযোগকারিণী।
'বাটন' ভিডিও বানানোর পরপরই এই ঘটনা ঘটায় অনেকেই মনে করছেন হয়তো রাজনীতি লুকিয়ে আছে গোটা ঘটনার নেপথ্যে। অভিযোগকারিণী টাকার বিনিময়ে মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন। এই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট জবাব, "আমি কারও মেয়ে, কারও বাড়ির বোন। তার বাড়িতেও মা ছিল। তাহলে আমি জানি না, কত টাকা দিয়ে এটা করানো যায়। আমার সাথে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।"
