তামিল সিনেমার ‘থলপতি’ জোসেফ বিজয় গত রবিবার পা দিলেন ৫২ বছর বয়সে। তবে এবারের জন্মদিনটি ওঁর জীবনের আর পাঁচটা জন্মদিনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এবার তিনি শুধুই রূপোলি পর্দার তারকা নন, বরং তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও প্রথমবার নিজের জন্মদিন উদযাপন করলেন। ওঁর রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর, গত ১০ই মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজয়।
অভিনেতা থেকে তামিলনাড়ুর শীর্ষ রাজনৈতিক পদে ওঁর এই ঐতিহাসিক উত্তরণকে কুর্নিশ জানিয়ে গতকাল বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দানের হেভিওয়েটরা বিজয়কে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন।
বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে তামিল সিনেমার আরেক দিকপাল তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা কমল হাসন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করে তামিলনাড়ুর মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম-এর সভাপতি পদে আসীন হওয়া আমার অত্যন্ত প্রিয় ছোট ভাই বিজয়কে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
নস্টালজিয়ার খাতিরে উল্লেখ্য, কমল হাসান এবং বিজয় ১৯৯৫ সালের বিখ্যাত তামিল ছবি ‘নাম্মাভার’ -এ একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তরুণ বিজয় একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দুই ভিন্ন প্রজন্মের তারকা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ বছর ধরে ওঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বজায় রয়েছে।
বিজয়কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, “তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থিরু সি. জোসেফ বিজয় জি-কে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আমি ওঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করি।”
অন্যদিকে, বিজয়ের অন্যতম সফল অন-স্ক্রিন পার্টনার এবং দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেত্রী নয়নতারাও শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “শুভ জন্মদিন প্রিয় থলপতি। আগামী বছরটা আপনার দারুণ কাটুক স্যার।” উল্লেখ্য, বিজয় এবং নয়নতারা জুটি বেঁধে ‘ভিল্লু’, ‘শিবাকাশি’ এবং ‘বিগিল’-এর মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন। এমনকি বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক অ্যাকশন থ্রিলার ছবি ‘জন নয়গন’ -এও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকেরা।
বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে শাসন করেছেন বিজয়। ‘গিলি’, ‘পোকিরি’, ‘তুপ্পাক্কি’, ‘মেরসাল’, ‘মাস্টার’ এবং ‘লিও’-র মতো একের পর এক অল-টাইম ব্লকবাস্টার ছবি দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন এক বিশাল ফ্যান বেস। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের রাজনৈতিক দল 'টিভিকে' লঞ্চ করার পর তিনি ধীরে ধীরে অভিনয় জগৎ থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন এবং পুরোপুরি রাজনীতিতে মন দেন।
আগের বছরগুলোতে বিজয়ের জন্মদিনে যেখানে তামিলনাড়ু জুড়ে সিনেমা হলের বাইরে উৎসবের আমেজ থাকত, এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় ওঁর জন্মদিনটি কাটালেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, কোনও জাঁকজমক না করে তিনি দিনটি কাটিয়েছেন জনকল্যাণমূলক কাজ, নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে জনসংযোগ এবং প্রশাসনিক কর্মসূচির তদারকি করে। বক্স অফিসের ‘কিং’ থেকে রাইসিনা হিলস বা সেন্ট জর্জ ফোর্টের কুর্সি সামলানোর এই সফর নিঃসন্দেহে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে।















