অভিনেতাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মালয়ালম মুভি আর্টিস্ট Association of Malayalam Movie Artists (AMMA)-এর সভাপতি শ্বেতা মেনন (Shwetha Menon) এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন ১৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি রবিবার পদত্যাগ করেছে। সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় তীব্র বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত কয়েক মাস ধরে AMMA-র অভ্যন্তরে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠকে বার্ষিক রিপোর্ট ও হিসাবের বিবরণ গ্রহণ নিয়ে সদস্যদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। সদস্যদের একাংশের অভিযোগ,
সাধারণ সম্পাদক কুকু পরমেশ্বরান (Kuku Parameswaran) যে বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেছেন, তাতে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই। এই অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় শ্বেতা মেনন ঘোষণা করেন যে তিনি সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন পুরো কার্যনির্বাহী কমিটিও পদত্যাগ করেছে।
শ্বেতা বলেন, তিনি শুধু সভাপতির পদ নয়, AMMA-র প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও সরে এসেছেন এবং সংগঠনের সঙ্গে আর যুক্ত নন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব পেশ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি, সংগঠনের এক কর্মীকে বরখাস্ত করা এবং পরে তাঁর অভিযোগের বিষয়টিও ঠিকভাবে সমাধান করা হয়নি।
শ্বেতার আরও অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের হাতে আবার সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিছু সদস্যকে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
শ্বেতা বলেন, “আমাদের না জানিয়েই আমাদের সরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমি নিজের মত প্রকাশ করি। পুতুল হয়ে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
বৈঠকের পর বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মল্লিকা সুকুরামণ বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটিরও কিছু ভুল ছিল। তাঁর মতে, সংগঠনের নেতৃত্বে এমন মানুষ থাকা উচিত, যাঁরা চলচ্চিত্র জগতকে বোঝেন এবং সমস্যাগুলি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন।
সূত্রের খবর, সংগঠনের হিসাব সংক্রান্ত অভিযোগই শেষ পর্যন্ত বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। নতুন নেতৃত্ব না আসা পর্যন্ত একটি অ্যাড হক কমিটি সংগঠন পরিচালনা করতে পারে।
গত বছরের আগস্টে AMMA-র ইতিহাসে প্রথমবার মহিলারা নেতৃত্বে এসেছিলেন। শ্বেতা মেনন সভাপতি এবং কুকু পারমেশ্বরন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।















