চলতি বছরের গোড়ার দিকে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং রুবেল দাস। কয়েক বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ১৯ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। সেই শুভ দিনের বছর ঘোরার আগেই কোন সুখবর শোনালেন অভিনেত্রী? 

সদ্যই ১৯ নভেম্বর বিয়ের ১০ মাস পূর্ণ করলেন শ্বেতা ভট্টাচার্য এবং রুবেল দাস। বিয়ের ১০ মাস পেরোতেই একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিনেত্রী। সেখানেই শ্বেতা ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা যায়, 'আজ ১৯ নভেম্বর, আজ আমি আবার বউ সেজে ফেলেছি, কারণ আজকে আমার বিবাহবার্ষিকী। বিবাহবার্ষিকী বলে আমি সবাইকে আজ নিমন্ত্রণ করেছি, কিন্তু কাউকে কিছু খাওয়াইনি।' 

এদিন অভিনেত্রীকে মজা করে আরও বলতে শোনা যায়, 'আজ আমি বউয়ের মতো সেজেছি, কিন্তু বর নেই। বর শুটিংয়ে। আজ ১০ মাস পূর্ণ হচ্ছে আমাদের।' এরপরই রীতিমত বোমা ফাটান তিনি। রুবেলের বেটার হাফ বলেন, '১০ মাস ধরে আমি ধারণ করছি।' ব্যাখ্যা করে শ্বেতা বলেন, '১০ মাস আমি রুবেলকে ধারণ করেছি, যদিও গর্ভে নয়, মনে। এভাবে যেন ১০ বছর কাটাতে পারি। এর বেশি বিস্তারিত আমি আমার বিবাহবার্ষিকীর দিন বলব। আজ আমার বিবাহবার্ষিকী নয়, ১০ মাস পূরণ হল। আমাদের ইচ্ছে আছে ১ বছরের অ্যানিভার্সারি পালন করার, সেদিন আরও বিস্তারিত ভাবে আপনাদের বলব।' তবে কি অভিনেত্রী সত্যিই গর্ভবতী? এদিন তারই ইঙ্গিত দিলেন? নাকি নিছক মজা করেই কথাটা বলেছেন, প্রশ্ন অনুরাগীদের। 

সম্প্রতি একটি ভিডিও পোস্ট করে বরের প্রশংসা করতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে, জানান অসুস্থতার মধ্যেও কীভাবে শুটিং করছেন রুবেল। সেই ভিডিওতে শ্বেতা বলেন, 'এখন রাত দু'টো। আপনাদের সঙ্গে একটা কথা ভাগ করে নেওয়ার জন্য ভিডিওটা করলাম, সেটা রুবেলও দেখবে। আর আমি চাই ও দেখুক। কেউ যখন কঠোর পরিশ্রম করে, তখন তাকে উৎসাহ দেওয়া, তার কাজের প্রশংসা করা উচিত। আজ যখন ও শুটিংয়ে গেছে, তখন ওর শরীরটা বেশ খারাপ ছিল। জিম থেকে বাড়িতে এসে, তারপর শুটিংয়ে গেছে। ওর বারবার বমি পাচ্ছিল, শরীর খারাপ লাগছিল, বোধহয় প্রেসারও বেড়ে গিয়েছিল। বেশ শরীর খারাপ। তার মধ্যে নেপালগঞ্জ বলে একটা জায়গায় আজ ওর নাইট আউটডোর। আজ ওর বাড়ি ফিরতে ফিরতে ৪টে থেকে সোয়া চারটে বাজবেই। তার মধ্যে শরীর ভাল নেই। কঠিন সব সিন রয়েছে, যেমন কিডন্যাপের সিন, ইত্যাদি। আপনারা দেখুন আপনাদের ভাল লাগবে। আসলে আমরা টিভিতে দেখি আর ভাবি যে, কত সহজে সব হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার পিছনে কত কঠোর পরিশ্রম থাকে বুঝি না।'

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'যমুনা ঢাকি' ধারাবাহিকের সেটে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একে অন্যকে মন দিয়ে বসেন শ্বেতা এবং রুবেল। সেই ধারাবাহিকেই প্রথম তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। এরপর নানা ওঠাপড়ায় একে অন্যের পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে গত বছর যখন রুবেল তাঁর পা ভাঙেন এবং ডেঙ্গু হয় তাঁর, সেই সময় তাঁর পাশে ঢাল হয়ে ছিলেন অভিনেত্রী। 

বর্তমানে রুবেল দাসকে জি বাংলার ধারাবাহিক 'তুই যে আমার হিরো' -তে দেখা যাচ্ছে। নায়কের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে শ্বেতা ভট্টাচার্যকে শেষবার 'কোন গোপনে মন ভেসেছে' ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল শ্যামলীর চরিত্রে। তাঁর বিপরীতে সেখানে রণজয় বিষ্ণু ছিলেন।