ভারতীয় ছবির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকা ‘ব্যান্ডিট কুইন’ মুক্তি পাওয়ার অনেক আগেই সেই ছবির জগতে নিজেকে কল্পনা করেছিলেন নীনা গুপ্তা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানালেন, শেখর কাপুর পরিচালিত ১৯৯৪ সালের এই আলোচিত ছবির মুখ্য চরিত্র ফুলন দেবীর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই চরিত্রে দেখা যায় সীমা বিশ্বাসকে, যা তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে।

এক সাক্ষাৎকারে নীনা বলেন, নয়ের দশকের শুরুতে হিন্দি ছবির জগতে তখন নতুন ধারার নির্মাতা ও শিল্পীদের উত্থান ঘটছিল। সেই সময়েই ‘ব্যান্ডিট কুইন’-এর কাস্টিং শুরু হলে তিনি ফুলন দেবীর চরিত্রের জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেন। নীনার কথায়, “আমি ১৯৯৩ সালে বম্বেতে যাই। ১৯৯১ সালেও গিয়েছিলাম, কিন্তু তখন ঠিক মন বসেনি।”

নীনা জানান, ছবির মূল চরিত্রের জন্য অডিশন দেওয়ার সময় পরিচালক শেখরের কাছে নিজের ছবিও পাঠিয়েছিলেন। চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সম্পূর্ণ রূপান্তরের জন্য তিনি যে প্রস্তুত ছিলেন, তা বোঝাতে নীনা বলেন, “আমার চুল নাকে গুঁজে তোলা ছবি পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম। শেখরকে দিয়েছিলাম সেগুলো।”

তবে শেষ পর্যন্ত পরিচালক মনে করেছিলেন, এই চরিত্রের জন্য নীনা উপযুক্ত নন। অভিনেত্রীর কথায়, “শেখর বলেছিলেন, তুমি এই চরিত্রের জন্য একটু বেশি সুন্দর। ওরা চরিত্রটাকে একটু গাঢ়, রুক্ষ চেহারার চেয়েছিল। আমি তুলনায় বেশি ফর্সা।” তবু তিনি অকপটে স্বীকার করেন, সীমার কাস্টিং ছিল একেবারেই নিখুঁত।

সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙে নীনা নতুনভাবে গড়ে তুলে প্রমাণ করেছেন তাঁর অভিনয়ের পরিসর। নয়ের দশকের অনিশ্চয়তা থেকে আজকের আত্মবিশ্বাস, নীনা বারবার দেখিয়েছেন যে প্রতিভা কখনও হারিয়ে যায় না, শুধু সময়ের অপেক্ষা করে। প্রধান চরিত্র হোক বা পার্শ্বচরিত্র, বড় পর্দা কিংবা ওটিটি, নিজের শর্তে কাজ করে যাওয়া এই অভিনেত্রী আজও প্রাসঙ্গিক।

শেখর পরিচালিত ‘ব্যান্ডিট কুইন’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী জীবনীভিত্তিক ছবি হিসাবে আজও স্মরণীয়। মালা সেনের লেখা ‘ইন্ডিয়াজ ব্যান্ডিট কুইন: দ্য ট্রু স্টোরি অফ ফুলন দেবী ’অবলম্বনে তৈরি এই ছবি ফুলন দেবীর জীবনসংগ্রাম, শৈশবের নির্যাতন, জাতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়া, যৌন হিংসা থেকে চম্বলের দস্যুদের নেত্রী হয়ে ওঠার কাহিনিকে নির্মম বাস্তবতায় তুলে ধরেছিল।
 
আপাতত একাধিক কাজ নীনার হাতে। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছে কার্তিক আরিয়ান ও অনন্যা পাণ্ডে অভিনীত রোমান্টিক ড্রামা ‘তু মেরি ম্যায় তেরা ম্যায় তেরা তু মেরি’ ছবিতে। আগামী দিনে তাঁর মুক্তি পেতে চলেছে ‘বধ ২’, যা ২০২২ সালের থ্রিলার ‘বধ’-এর সিক্যুয়েল। ছবিটি ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।