কিছুদিন আগেই সমাজমাধ্যমে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক জানিয়েছিলেন তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। শনিবার তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ মল্লিক হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও ভাগ করেছিলেন। এখন কেমন আছেন কাঞ্চন? জানতে আজকাল ডট ইন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল শ্রীময়ীর সঙ্গে। 

শ্রীময়ী বলেন, "এটা প্রায় এক মাস আগের ঘটনা। এখন কাঞ্চন পুরোপুরি সুস্থ। কিছুদিন আগেই শুটিং ফ্লোরে ফিরেছিল। অভিমান ছবিটার শুটিং সারল ও। ভিডিওগুলো সেই সময় পোস্ট করা হয়নি সোশ্যাল মিডিয়ায়, তাই এখন সবাইকে খবরটা জানাচ্ছি।"

এর আগে কাঞ্চন মল্লিক পোস্ট করেছিলেন হাসপাতাল থেকেই। সেখানে তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে ছবি ভাগ করে লিখেছিলেন, 'এই ছবিতে যাঁর পাশে আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি তিনি হলেন দিশা আই হসপিটালের ডঃ সমর কুমার বসাক। ছবিটা দিলাম এই কারণেই কারণ আমার ক্লাস ওয়ানেরও আগে থেকে চোখে চশমা। ডান চোখে সাংঘাতিক মাইনাস পাওয়ার,  ডান চোখে মাইনাস ৮, বাম চোখে মাইনাস ৩। ধীরে ধীরে যখন আমার ডানচোখের দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে আমি বিভিন্ন ডাক্তার দেখানো শুরু করি। একটা পর্যায় ডাক্তার আমায় বলেন যে ডান চোখে প্রপার দেওয়া হলে সেটা হবে মাইনাস ১৮ ! যেটা সারানো একেবারেই অসম্ভব। এভাবেই চলতে হবে সারা জীবন। 
পরবর্তীকালে শ্রীময়ীর পরামর্শে আমি পৌঁছে গেলাম দিশা আই হসপিটালে। সেখানে ডঃ সমর কুমার বসাক আমায় আশ্বস্ত করেন যে লেজার অপারেশনের মাধ্যমে আমি আমার ডান চোখের দৃষ্টি আমি ফিরে পাবো।এবং সেই অপারেশন সফল হল। আমি সত্যিই আমার ডান চোখের দৃষ্টি ফিরে পেলাম।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)

কাঞ্চন আরও লেখেন, 'ডঃ সমর কুমার বসাক আমার জীবনে শুধুমাত্র একজন ডাক্তার নয়, তিনি আমার জীবনের এক নতুন সূর্য , যিনি আমাকে এই পৃথিবীটাকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। লেজার অপারেশনের পরে এখন আমার ডানচোখে কোনো পাওয়ারই নেই, বাম চোখে মাইনাস ১ মাত্র। চশমাটি শুধুমাত্র এখন একটা অপশন মাত্র । দরকারে পড়লেও পড়তে পারি। আমি ভাবতেও পারিনি চল্লিশ বছরের উপর যেটিকে নাকের উপর বহন করেছি সেটা একটিমাত্র অপারেশনে পালটে যাবে। ডঃ সমর কুমার বসাকের হাতের যাদুতে এবং দিশা আই হসপিটালের তত্ত্বাবধানে চারদিকের আকাশটাকে এরকম পরিস্কারভাবে দেখতে পাব আমি সত্যিই কোনওদিন ভাবিনি। অপারেশনের পরে যখন প্রথম আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছি তখন ওই গানটাই মনে পড়েছে,এই এত আলো, এত আকাশ আগে দেখিনি। কই চোখে পড়েনি...।' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)