আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ তথা বলিউডের ‘শটগান’ শত্রুঘ্ন সিনহা আবারও খবরের শিরোনামে। তবে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য বা সিনেমার জন্য নয়, এবার এক ভক্তের ওপর মেজাজ হারিয়ে নেটজনতার তীব্র রোষের মুখে পড়লেন প্রবীণ এই অভিনেতা। অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর এবং পরিচালক শরণ শর্মার জমকালো বিয়ের রিসেপশনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
মুম্বইয়ের জেডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের বাইরে পাপারাৎজিদের ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। ঠিক তখনই অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে আসেন এক অনুরাগী। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সেই ভক্ত আঙুল দিয়ে ভিক্টরি বা ‘ভি’ সাইন দেখাতেই চটে যান প্রবীণ তারকা। এক মুহূর্ত সময় না নিয়ে প্রকাশ্যেই সেই ভক্তের উঁচিয়ে ধরা হাতে সপাটে একটি চড় মারেন শত্রুঘ্ন। বিরক্তি প্রকাশ করে খড়খড়ে গলায় বলেন, “হাত নীচে!” আচমকা এই আচরণে থতমত খেয়ে যান ওই ব্যক্তি এবং সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে দূরে সরে যান।
?utm_source=ig_web_copy_link&igsh=NTc4MTIwNjQ2YQ==
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন নেটিজেনরা। ভক্তের প্রতি এমন ‘উদ্ধত’ আচরণের জন্য অনেকেই বর্ষীয়ান অভিনেতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইনস্টাগ্রামে একজন লিখেছেন, "এত অহংকার ভালো নয়।" অন্য একজন প্রশ্ন তুলেছেন, "উনি মারলেন কেন ওনাকে?" তৃতীয় একজন ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, "নার্ভের সমস্যা নাকি? ভদ্রভাবেও তো হাতটা নামাতে বলতে পারতেন!" তবে অল্প কিছু মানুষ বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার চেষ্টা করলেও, সিংহভাগ নেটিজেনই সাংসদ-তারকার এই রুক্ষ ব্যবহার মেনে নিতে পারছেন না।
রবিবার রাতের এই জমকালো রিসেপশন পার্টিতে হাজির ছিলেন আলিয়া ভাট, ববি দেওল, জ্যাকি শ্রফ, নীনা গুপ্তা এবং শত্রুঘ্ন-কন্যা সোনাক্ষী সিনহাও। প্রায় চার বছর ডেটিং করার পর অবশেষে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন আকাঙ্ক্ষা ও শরণ। কিন্তু সেই আনন্দের উদযাপনের মাঝেই এই ‘থাপ্পড় কাণ্ড’ পুরো আলো কেড়ে নিয়েছে।
অভিনয় জগৎ থেকে অনেকদিন আগেই দূরত্ব তৈরি করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। ২০১৮ সালের ‘য়ামলা পাগলা দিওয়ানা: ফির সে’ ছবির পর তাঁকে আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি। মেয়ে সোনাক্ষী সিনহাও সম্প্রতি জানিয়েছেন, আপাতত ক্যামেরার সামনে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর বাবার। বর্তমানে তিনি আসানসোলের তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই রাজনীতিতে ফুল-টাইম সময় দিচ্ছেন। তবে ভোটের ময়দান ছেড়ে গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা দিতেই যে এভাবে মেজাজ হারাবেন ‘বিহারীবাবু’, তা বোধহয় কেউ আশা করেনি।
















